শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৫

বাঘ, শেয়াল আর পণ্ডিত


(ভারতবর্ষের উপকথা)

কোন এক সময়ে একটা বাঘ খাঁচায় ধরা পড়েছিল। খুব লাফালাফি করেও সে কিন্তু তার ঐ খাঁচা থেকে বার হতে পারছিল না। রাগ হচ্ছিল তার খুব, কিন্তু তা দিয়ে তো আর খাঁচা থেকে বার হওয়া যায় না। কি করে ভাবছে। এমন সময় দেখে এক পণ্ডিত মশাই ওদিক দিয়ে আসছেন।

বাঘ একটা পেন্নাম ঠুকে বলে, এই যে পণ্ডিত মশাই, এদিকে একবার এসে আমাকে খাঁচার বাইরে বার করে দিন না। আমি আটকা পড়ে গেছি। পণ্ডিত মশাই বলেন, না রে ভায়া, আমি যদি খাঁচা খুলে তোমাকে বার করে দিই তবে তো তুমি আমাকেই প্রথমে খেয়ে নেবে

বাঘ বলে, তা কি হয়। আপনি আমায় মুক্তি দেবেন আর আমি আপনাকে খেয়ে ফেলব, বরঞ্চ আমি সারা জীবন আপনার দাসানুদাস হয়ে থাকব। এদিকে এই কথার সাথে বাঘের কান্না কাটি দেখে পণ্ডিত মশাইয়ের মনে একটু করুণা হল। আর তাছাড়া বাঘ তো বলছে যে সে খাবে না, তাই পণ্ডিত মশাই আসতে করে এগিয়ে এসে খাঁচার দরজাটা খুলে দিলেন।

আর যায় কোথা, বাঘ তো বাইরে এসে গেল, আর এসেই বলে, আমার তো ভীষন ক্ষিদে পেয়েছে। এতক্ষণ আমি আটকা পড়েছিলেম। তাই তোমাকে খেতে আমার তো কোন বাধা নেই। তোমাকেই খাব। পণ্ডিত বলে সেটা কি করে হয়, তুমি আমাকে বললে খাবে না তাই তো আমি খাচার দরজা খুলে দিলাম। এখন বলছ যে আমাকে খেয়ে নেবে। এটা কি রকম কথা

দুজনে খুব তর্কাতর্কী হতে লাগল। তার পরে ঠিক হল আর একজন কাউকে জিজ্ঞেস করা যাক । সে যদি বলে বাঘ পন্ডিতমশাইকে খাবে তবে বাঘ খেয়ে নেবে, আর যদি বলে খাবে না তবে বাঘ না খেয়ে চলে যাবে।
প্রথমে জিজ্ঞেস করা হল এক পিপুল গাছকে। গাছ বলে দিল এতে জিজ্ঞেস করার কি আছে। আমি তোমাদের ছায়া দিই, যাতে গরমে তোমরা বসে বিশ্রাম নিতে পার, আর তোমরা আমার ডাল পাতা ভেঙ্গে নিয়ে ছাগলকে খেতে দাও। কাজেই উপকার করলে তার প্রতিদান হচ্ছে শাস্তি। বাঘ তো ঠিক কথা বলছে

পন্ডিতের মনে উত্তরটা ভাল লাগল না। সে এবার জিজ্ঞেস করল একটা মোষকে। কাছেই মোষটা ঘানি টানছিল, তাঁকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলে, তা বাঘ আর কি খারাপ বলেছে। আমি যতদিন দুধ দিয়েছি ততদিন তো আমাকে তোমরা ভাল মন্দ খেতে দিয়েছ আর যখন আমার দুধ নেই তখন খাবারও নেই

এবার পন্ডিত জিজ্ঞেস করে রাস্তাকে। কিন্তু সেও ঐ একই ধরনের কথা বলে। বলে যে আমার উপরদিয়ে তোমারা যাতায়াত কর কিন্তু আমাকে কি দাও তার বদলে, ধল ময়লা ছাড়া কিছু না।

এমন সময় পন্ডিত দেখে একটা শেয়াল কাছ দিয়ে যাচ্ছে। শেয়াল জিজ্ঞেস করে, কি ব্যপার পন্ডিত মশাই। 
আপনাকে তো দেখছি খুব মুশড়ে পরে আছেন।  পন্ডিত মশাই তাঁকে সব কথা খুলে বলেন। কিন্তু শেয়াল বলে, ঠিক বুঝতে পারছি না। আমরা বরঞ্চ সে জায়গাতে ঘটনা ঘটেছে সেখানেই যাই, তাহলে ব্যপারটা বুঝতে সুবিধা হবে। চলল তারা ঐ খাঁচাটা যেখানে ছিল। বাঘও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। শেয়ালকে আবার যখন পন্ডিতমশাই সব বোঝাতে যায়, তখন শেয়াল বলে,  আমি দেখতে চাই যে বাঘটা কি ভাবে খাঁচাতে আটকা পড়ে ছিল। আর কি ভাবে আপনি খাচার দরজা খুলে দিয়েছিলেন

এদিকে বাঘ রেগে বলে আমার কিন্তু ক্ষিধে খুব জোরে পেয়েছে আমি এখনই পন্ডিতকে খাব। পন্ডিতমশাই বলে এই শেয়াল ভায়া একবার দেখতে চান যে আমি কি ভাবে আপনাকে খাঁচার বাইতে বার করে দিয়েছি।  আবার পণ্ডিত মশাই সব কথা বলতে যায়। শেয়াল বলে, পন্ডিত মশাই আপনি খাঁচার ভেতরে ছিলেন, আর বাঘটা বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল, তার পরে আপনি খাঁচার বাইরে এসেছিলেন


এইবার বাঘ গেল রেগে, শেয়ালকে বলে, বুদ্ধু কোথাকার, বলছিনা আমি খাচার ভেতরে ছিলাম। দেখ ঠিক এই ভাবে খাচার ভেতরে ছিলাম। এই বলে বাঘ খাচার ভেতরে ঢুকে গিয়ে দেখাতে লাগল। শেয়াল তখন পণ্ডিত নশাইকে বলে তাহলে আর দেরি কেন। এবার খাচাটা বন্ধ করে দিন। বাঘ ভায়া ভেতরেই থাকুক।

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০১৫

কলু আর তার ছেলে (সাওতালী উপকথা)

কলু আর তার ছেলে
(সাওতালী উপকথা)

 

এক গ্রামে এক কলু তার পাঁচ ছেলেদের নিয়ে থাকত। বাপ মা আর পাঁচ ছেলেরা, সবাই এক সাথেই থাকত। কিন্তু তার ছেলের বউদের একসাথে থাকার কোন ইচ্ছে ছিল না। তারা খালি তাঁদের স্বামীদের বিরক্ত করত যে সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নাও। আর একলা আলাদা সংসার পেতে থাক।

বুড়ো তো প্রথমে রাজীই হয় না। শেষে একদিন ছেলেদের ডেকে বলে শোন, তোরা তো আলাদা হতে চাইছিস। তাহলে একটা কাজ কর দেখি আগে।  একটা দু বিঘত লম্বা ডান্ডা নিয়ে আয়। ছেলেরা ভয়ে ভয়ে ডান্ডা নিয়ে তো এল। তাঁদের ভাবনা এই বুঝি বাবা তাঁদের পিঠেই ঐ ডান্ডা ভাঙ্গে। কিন্তু বুড়ো সে সব কিছুই করল না।  বরঞ্চ বললে, তোরা কি কেউ এই ডান্ডাটাকে ভাঙ্গতে পারিস

ছেলেরা বলে খুব সোজা। একটা কুড়ালী দিয়ে মারলেই ওটাকে দু টুকরো করা যাবে। বুড়ো বলে, উহু খালি হাতে , কিছুর সাহায্য না নিয়ে ভাঙ্গতে হবে। যদি পারিস, তবে তোদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিচ্ছি।

এক এক কোরে সবাই চেষ্টা করে কিন্তু কেউই পারে না। তখন বুড়ো বলে, দেখ তোরা তো পাঁচ জন আছিস আর আমাকে নিয়ে সেটা ছয়। এক কাজ কর। এই ডান্ডাটাকে ছটা লম্বা টুকরোতে চিড়ে ফেল দেখি। ছেলেরা খুব সহজেই ডান্ডাটাকে ছটা সরু টুকরোতে চিড়ে ফেলতে পারল। তখন বুড়ো তাঁদের বলে এবার তোরা এক একটা টুকরোকে ভেঙ্গে দু টুকরো করতে পারিস কিনা দেখ। ছেলেরা বলে খুব সোজা। এই নাও বলে প্রত্যেকে একটা করে টুকরো নিয়ে পটাপট করে ভেঙ্গে দিল।

বুড়ো তখন বলে, দেখ এই টুকরোগুলো হচ্ছি আমরা। যতক্ষন আমরা একসাথে আছি, ততক্ষণ কেউ কিছু করতে পারছে না। কিন্তু যেই আমরা আলাদা হয়ে যাব, অমনি আমাদের ভেঙ্গে আলাদা করতে কারুর অসুবিধা হবে না।

ছেলেরা বলে, ঠিক কথা বলছ। তাহলে  আমাদের সম্পত্তি ভাগাভাগী করার দরকার নেই, কিন্তু আমাদের হাঁড়ি আলাদা করা হোক, যে যার খাবার নিজের মত করে বানিয়ে খাবে।  বুড়ো কিন্তু এই কথাতে ভীষন আপত্তি জানাল। সে বললে, লোকে তোদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি না করে আলাদা করে দিলে তো আমাকেই দোষ দেবে। ছেলেরা একেবারে নাছোড়বান্দা, তাই শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি ভাগ করেই দেওয়া হল।

কিছুদিনের মধ্যে দেখা গেল ছেলেরা খুব অর্থকষ্টের মধ্যে আছে। রান্নার আনাজের কমি, জামা কাপড়ের ফাটা হাল, এমন কি বুড়ো বাপের পর্যন্ত  ঐ একই অবস্থা।

বুড়ো ছেলেদের ডেকে পাঠিয়ে বলে, তোদের একটা ধাঁধা দিচ্ছি। তার উত্তর দে দেখি। চারটে কলসীর মধ্যে তিনটে ছোট কলসী খালি আছে আর একটা বড় কলসীতে জল ভর্তি আছে। এখন যদি বড় কলসী থেকে জল নিয়ে ছোট কলসী তিনটেতে ঢালি, তবে সেগুলো তো ভরে যাবে, আর বড়টাও একেবারে খালি হবে না। আর যদি বড় কলসী খালি থাকে আর ছোট তিনটে কলসীর জল তাতে ঢেলে ভরতে যাই তবে বড়টা তো ভরবে না, পরন্তু ছোটগুলোও খালি হয়ে যাবে। এটা কেন হবে বল দেখি।

ছেলেরা উত্তর দিতে পারেনা। তখন বুড়ো বলে দেখ এই কলসী গুলোকে মনে কর আমরা। কাজেই আমি তাও সবাইকে কিছুটা হলেও দিতে পারতাম। কিন্তু আলাদা হয়ে যাবার পরে তোরা তো আমাকে দিতে পারছিস না তার উপরে সেটা করতে গিয়ে তোরাও বিপদে পড়ছিস।


ছেলেরা এইবার বুঝতে পারল। আর তার পরে তারা আবার এক হয়ে থাকতে লাগল।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৫

তিন উপদেশ (ইটালীর উপকথা)

(ইটালীর উপকথা)

একবার একজন লোক তার শহর ছেড়ে বিদেশে গেল চাকরী করে কিছু টাকা রোজগার করতে। কাজ পেল সে এক পন্ডিতমশাইয়ের কাছে। মন দিয়ে সে কাজ করতে সুরু করে দিল। তার কাজে পন্ডিতমশাই ভীষণ খুশী ছিল। বেশ কিছুদিন কাজ করার পরে সেই লোকটার ইচ্ছে হল যে সে একবার বাড়ী থেকে ঘুরে আসে।

পন্ডিতমশাইকে বলে, গুরুদেব, আমি অনেকদিন হল ঘরদোর ছেড়েছি। একবার বাড়ির লোকজনকে দেখবার ইচ্ছে হচ্ছে। আমায় একবার দেশে ফিরবার অনুমতি দিন

পন্ডিতমশাই ভেবে দেখলেন সত্যিই অনেকদিন বেচারা ঘর ছাড়া, তাই বললেন, ঠিক আছে তুমি যেতে পার, কিন্তু তোমার মাইনেটা তো তোমাকে দিতে হয়। তা তুমিই বল সেটা কি ভাবে নেবে। হয় মাইনে হিসাবে তিনটে উপদেশ নাও, আর নয়ত তোমায় তিনশ টাকা আমি নগদে দিচ্ছি।

লোকটা বলে, গুরুদেব, আপনার উপদেশ আমার কাছে অনেক দামী মনে হয়। আপনি টাকার বদলে ঐ উপদেশ তিনটি আমাকে বলুন

গুরুদেব তখন তাঁকে বললেন, নাও তবে শোন, আমার প্রথম উপদেশ হচ্ছে তুমি যখন কোন নতুন রাস্তা ধরবে কিনা এই চিন্তায় পড়বে, তখন মনে রাখবে যে তোমার পুরনো রাস্তাই ভাল ছিল

আর দ্বিতীয় উপদেশ হল, তুমি সব সময় দেখবে অনেক কিছু, কিন্তু সে নিয়ে কথা কমই বলবে। আর তৃতীয় উপদেশ হল, যখনই কোন কাজ করতে যাবে, আগে অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করে নেবে যে সেটা করা ঠিক হবে কিনা

এই কথা বলে পন্ডিতমশাই তাঁকে বিদায় জানালেন, আর সাথে একটা রুটীও দিয়ে দিলেন। যাবার আগে তাঁকে বলে দিলেন ,যে এই রুটীটা, সে যখন সত্যি সত্যি, খুব আনন্দে থাকবে, তখনই যেন ভেঙে তার উপযোগ করে।
লোকটি তো পন্ডিতমশাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘরের দিকে রওয়ানা দিল।  রাস্তায় সে জনাতিনেক সঙ্গীও পেয়ে গেল, যারা ঐ একই দিকে যাচ্ছে। সঙ্গীরা কিছুদূর যাবার পরে এক জায়গাতে এসে বলে, ঐ পুরনো রাস্তা দিয়ে পৌছতে বেশী সময় লাগবে আর এদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে। তার চেয়ে চলে আমরা সবাই এই নতুন চওড়া রাস্তা ধরে যাই

লোকটার তক্ষুনি পন্ডিতমশাইয়ের কথা মনে পড়ে গেল যে পুরনো রাস্তা অনেক ভাল। সে অন্যদের বললে, না ভাই আমি এই পুরনো চেনা রাস্তা দিয়ে যাই। অন্য লোকেরা তাঁকে ছেড়ে দিয়ে নতুন অন্য রাস্তা ধরল। কিছুক্ষন বাদে লোকটা হঠাত বন্দুকের গুলির আওয়াজ পেয়ে ভাবে কি হল। আসলে ডাকাতেরা তার সঙ্গীদের গুলি করে মেরে তাঁদের সব কিছু লুঠ করে নিয়েছিল। লোকটা মনে মনে ভাবে এটা তো আমার সেই মাইনের একশ টাকার চেয়ে দামী উপদেশ ছিল।

এমন সময়ে চলতে চলত ভীষন পরিশ্রান্ত আর ক্ষিধে পেয়েছে দেখে  সে ঢুকে পড়ল এক সরাইখানায়। খাবারের অর্ডার দিয়ে বসে পড়ল টেবিলে। খাবার এল, রুটি আর মাংস। মাংসের ডিসে কাঁটা দিয়ে খাবারটা নাড়তেই সে একেবারে চমকে উঠল, আরে এটা যে মানুষের মাংস। সরাইখানার মালিককে চেচিয়ে ডাকতে গিয়েও সে চুপ করে গেল, কেননা তার হঠাত পন্ডিতমশাইয়ের দ্বিতীয় উপদেশ মনে পড়ে গেল যে দেখবে বেশী কিন্তু বলবে কম।

সে কিছু না বলে যখন খাবারের দাম মিটিয়ে দিয়ে সরাইখানা ছেড়ে রওয়ানা হচ্ছে, তখন সরাইখানার মালিক বলে, তুমি তো খুব বুদ্ধিমান, কোন চেঁচামেচী না করে তুমি চলে যেতে চাইছ । জান, যারা এর আগে ঐ মাংস দেখে চেঁচামেচী করেছে, তাঁদের সবাইকে মেরে তাঁদের মাংসই রান্না করা হয়েছে। লোকটা ভাবল তাহলে পন্ডিতমশাইয়ের দ্বিতীয় উপদেশও দেখছি আমার আরও একশ টাকার চেয়েও দামী। তাহলে আমার দুশ টাকার চেয়েও বেশী রোজগার হয়ে গেল।

লোকটা চলে আগে। শেষে গিয়ে পৌছাল তার ঘরে। দেখে ঘর খালি, কিন্তু একটা টেবিলে দুজনের মত খাবারদাবার আর সব কিছু সাজান আছে। লোকটা ভাবে দুজন কোথা থেকে হবে।  সে যখন বিদেশে যায় তখন তো একজন মানে তার স্ত্রীই ছিল। তাহলে ব্যপারটা ভাল করে দেখতে হয়।
ঢুকে গেল সে খাটের নীচে, আর সেখান থেকে নজর রাখতে শুরু করল। কিছুক্ষণ বাদে  দেখে তার স্ত্রী বাইরে থেকে এক কলসী জল নিয়ে ঘরে ঢুকছে। আর তার পিছন পিছন এক সুপুরুষ দেখতে পণ্ডিত মশাই, অল্প বয়স্কই হবে,  ঘরে ঢুকে আসছে।
রেগে সে তাঁদের মারবার জন্য খাটের নীচ থেকে যখন বার হবে ভাবছে, তখনই শুনতে পেল যে সেই সুপুরুষ বলছে, তাহলে পুজো শুরু করা যাক। আগে পিতৃপুরুষদের নামে পূজো দিয়ে, তার পরে অন্য সবার মঙ্গল কামনা করার পুজো হবে।

লোকটা এই সব দেখেশুনে  আনন্দে একেবারে আত্মহারা হয়ে গেল আর  খাটের নীচ থেকে বের হয়ে নাচতে শুরু করে দিল। পন্ডিতমশাইয়ের তৃতীয় উপদেশ তাহলে তার কাছে আরও একশ টাকার চেয়ে দামী হল। তাহলে সে বোকামী করেনি যে টাকার বদলে উপদেশ চেয়ে নিয়েছে।

তাহলে এত যখন আনন্দের কথা হচ্ছে তখন গুরুদেবের দেওয়া রুটিটা ভাঙ্গা যাক। রুটিটা ভাঙ্গতেই দেখে তার মধ্যে তার মাইনে তিনশ টাকা রাখা আছে।

তাহলে  দেখলাম উপদেশের দাম কি টাকা দিয়ে মাপা যায়?



মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০১৫

বুড়ী আর তার খড়ের ষাঁড় (উক্রেইনের উপকথা)


 কোন এক সময়ে এক গাঁয়ে এক বুড়ো আর বুড়ি থাকত। বুড়ি ঘরে বসে চরখাতে সুতো কাটে আর বুড়ো বাইরে ঘুরে ঘুরে ছাদে আলকাতরা লাগান কাজ করে। দুজনের আর কেউ নেই, আর যা কিছু তাঁদের রোজগার হয় তার সমস্তটাই খাবারখরচে চলে যায়।জমা বলে কিছু আর থাকে না। একদিন বুড়ি এই নিয়ে বুড়োর সাথে কিছু কথা হবার পরে তাঁকে বলে, “তুমি একটা কাজ কর, আমাকে একটা ষাঁড় এনে দাও। বুড়ো বলে, “ষাঁড় কোথা থেকে হবে”। বুড়ী বলে, “খড় পাকিয়ে নিয়ে তাই দিয়ে বানিয়ে দাও না। আর তার পরে ওটার গায়ে আলকাতরা লেপে দিও”। “পাগল কোথাকার। খড়ের ষাঁড়ে আলকাতরা মাখিয়ে দিয়ে কি করবে শুনি”, বুড়ো জিজ্ঞেস করে। বুড়ী বলে, “আমি জানি ওটা দিয়ে আমি কি করব, তোমাকে তো কিছু করতে বলছি না। তুমি খালি ওটা আমাকে বানিয়ে দাও”। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে কি হবে, তাই বুড়ো কিছু খড় নিল আর তাই দিয়ে রাতে বসে একটা ষাঁড় বানিয়ে তাতে আলকাতরা লেপে দিল।
 ষাঁড় তৈরী। পরের দিন সকালে বুড়ী উঠে সেই ষাঁড়টাকে নিয়ে বার হল। সাথে তার চরখাটাও নিয়ে মাঠে গেল। আর মাঠে গিয়ে সেই ষাঁড়টাকে ছেড়ে দিয়ে সে সুতো কাটতে বসে গেল। সুতো কাটে আর গান গায়। “ছোট্ট ষাঁড় আমার, সুতো কাটি আমি এবার মাঠে চড়ে বেড়াও তুমি চলে এস ডাকি যখনই”। এই গায় আর সুতো কাটতে থাকে। কাটতে কাটতে বেলা অনেক হল, বুড়ি ঘুমিয়েই পড়ল। এখন কাছেই ছিল একটা ভালুক। সেই ভালুকড়টা এসে ঐ খড়ের ষাঁড়কে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কে হে”। ষাঁড় বলে, “আমি খড়ের ষাঁড়”। ভালুক বলে ওঠে, “আমায় একটু আলকাতরা দিতে পার, আমার সারা গায়ে যে কাটাছেড়া গুলো আছে, সেগুলো তাহলে তাড়াতাড়ি সারতে পারে”। কিন্তু ষাঁড়ের থেকে কোন জবাব এল না। রেগে গিয়ে ভালুক ঠিক করল, যে তাঁকে যখন ষাঁড় দেইনি, তখন সে নিজেই আলকাতরা নিয়ে নেবে। পড়ল ঝাঁপিয়ে আর গেল সেই আলকাতরাতে আটকে । যত নড়াচড়া করে ছাড়াতে চেষ্টা করে, আরও আটকে যায়। বাধ্য হয়ে সে ঐ ষাঁড়কে সাথে করেই বনের দিকে রওয়ানা দিল।
 এদিকে বুড়ী ঘুম ভেঙ্গে দেখে যে তার ষাঁড় সেখানে নেই। ঘরে চলে গেল কি? এই ভাবতে ভাবতে একটু এগোতেই দেখে ষাঁড় আর ভালুক একসাথে আটকে পড়ে আছে। উর্ধশ্বাসে ঘরে পৌঁছে বুড়োকে বলে, “দেখ এসে, আমার ষাঁড় কি রকম ভালুক ধরেছে”। বুড়ো গিয়ে দেখে সত্যি তাই। সে তাদের নিয়ে এসে ভালুক কে ভাঁড়ারঘরে আটকে রেখে দিল। পরের দিন সকালে বুড়ী আবার তার চরখা নিয়ে আর ষাঁড়কে সাথে নিয়ে গেল মাঠে। আবার সেই রকম ঝিমতে ঝিমতে ঘুমিয়ে পড়ল। এবার এল এক নেকড়ে। এসে ষাঁড়কে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কে হে”? ষাঁড় বলে, “আমি আলকাতরা মাখানো খড়ের ষাঁড়”। নেকড়ে ষাঁড়ের কাছে আলকাতরা চাইল এই বলে যে কুকুরের সাথে তার লড়াইয়ে গায়ে নানান জায়গাতে কেটে ছড়ে গেছে। আলকাতরা পেলে সেগুলো তাড়াতাড়ি সেরে যাবে। ষাঁড় যখন বললে নেকড়েকে নিজেই নিয়ে নিতে, তখন নেকড়ে ষাড়ের থেকে আলকাতরা নিতে গিয়ে ঐ আলকাতরাতে গেল আটকে। অনেক চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারল না। শেষে তাঁকে নিয়েই নেকড়ে ঘরের দিকে রওয়ানা দিল কিনতু অল্প দূরে গিয়েই শ্রান্ত হয়ে ঝিমিয়ে পড়ল। বুড়ী ঘুম থেকে উঠে দেখে তার ষাঁড় নেই। এদিক ওদিক খুঁজে দেখে নেকড়ে আর ষাঁড় একসাথে পড়ে আছে। এক দৌড়ে ঘরে গিয়ে বুড়োকে সব বলল। বুড়ো এসে দেখে সত্যি নেকড়ে আর ষাঁড় একসাথে পড়ে রয়েছে। তাঁদের ঘরে নিয়ে গিয়ে নেকড়েটাকে আলাদা করে নিয়ে ভাঁড়ার ঘরে বন্দী করে রেখে দিল।
পরের দিন আবার সেই রকম বুড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আর এক শেয়াল এসে আলকাতরা চায়। বলে কুকুরগুলোর সাথে মারামারীতে তার গায়ে অনেক চোট লেগেছে আর আলকাতরা পেলে সেগুলো তাড়াতাড়ি সেরে যাবে। ষাঁড় তাকে বলে নিজে এসে নিয়ে নিতে। আর হল কি। যেই নিতে গেছে অমনি শেয়াল গেল সেই আলকাতরাতে আটকে। কিছুতেই ছাড়াতে পারে না। চললে শেয়াল ষাঁড়কে টানতে টানতে তার আস্তানার দিকে। এদিকে বুড়ী ঘুম ভেঙ্গে দেখে তার ষাঁড় নেই। আর পরে দেখতে পেল যে ষাঁড়ের সাথে শেয়াল আটকা পড়েছে। এক দৌড় ঘরের দিকে। গিয়ে বুড়োকে ডেকে আনল। বুড়ো এসে শেয়াল কে নিয়ে বন্দি করল তার ভাঁড়ার ঘরে।
আর পরের দিন ঠিক এই ভাবেই এসে ধরা পড়ল এক খরগোস।
পরের দিন সকালে উঠে বুড়ো তো তার ছুরীতে বসে বসে শান দিচ্ছে। ভালুক দেখে জিজ্ঞেস করে, “ওটা কি করছ গো”? বুড়ো বলে, “ছুরীটাতে ধার দিচ্ছি। তোমাকে মেরে গাঁয়ের ছালটা দিয়ে আমাদের দুজনের জন্য একটা করে কোট তৈরী হয়ে যাবে। যা ঠান্ডা পড়ছে আজকাল”। ভালুক বলে, “আমাকে মের না। আমাকে ছেড়ে দিলে আমি তোমাকে অনেক অনেক মধু এনে দেব। তাতে তোমার অনেক টাকা হয়ে যাবে”। বুড়ো বলে, “তাহলে ছেড়ে দিচ্ছি, কিন্তু অতি অবশ্যই এনে দিবি”। এই বলে ভালুককে ছেড়ে দিল। আবার ভাঁড়ারের দরজার কাছে বসে বুড়ো ছুরিতে শান দিতে শুরু করল। এবার নেকড়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করে ওটা দিয়ে কি করবে। বুড়ো বলে, “তোমার গায়ের ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে তাই দিয়ে ঠান্ডার জন্য একটা গায়ের চাদর বানাব”। নেকড়ে বলে, “কি সর্বনাশ। আমাকে মারবে, তার চেয়ে আমাকে ছেড়ে দিলে আমি তোমার জন্য একপাল ভেড়া এনে দেব”। বুড়ো বলে, “ঠিক কথা বলছ তো। তাহলে যাও তোমাকে ছেড়ে দিচ্চি কিন্তু ভেড়ার পাল যেন ঠিক মতন পাই”।
নেকড়ে চলে গেল আর আবার বুড়ো বসে ছুরিতে শান দিতে লাগলে, শেয়াল জিজ্ঞেস করে কি করবে ওটা দিয়ে। বুড়ো বলে, “এটাকে ভাল করে শান দেবার পরে তোমার গায়ের ছালটা ছাড়িয়ে তাই দিয়ে বুড়ির জন্য কোট বানাব। ওতে অনেক ফার আছে। খুব ভাল দেখাবে”। শেয়াল বলে, “লক্ষীটি আমাকে মের না। আমাকে ছেড়ে দাও, তাহলে আমি তোমার জন্য বেশ কিছু হাঁস মুরগী ধরে নিয়ে এসে দিচ্ছি”। বুড়ো বলে, “ঠিক আছে। তাহলে ছেড়ে দিচ্ছি। যাও আর আমার জিনিষ নিয়ে এস”। পড়ে রইল খালি খরগোশ। তাঁকে কাটবার কথা বলার আগেই সে বলে, তোমার জন্য বোতাম আর রিবন এনে দেব। আমাকে ছেড়ে দাও। বুড়ো রাজী হয়ে খরগোসকেও ছেড়ে দিল।
রাত যখন বেশ অনেক হয়েছে, তখন বুড়োবুড়ী হঠাত শোনে দরজাতে ঠক ঠক করে আওয়াজ। কে এত রাতে ডাকে এই ভেবে বুড়ো উঠে দরজা খুলতেই ভালুক এসে একটা বড় দেখে মৌচাক বুড়োকে দিল। বুড়ো সেটাকে রেখে শুতে যাবে, তখনই আবার দরজাতে টোকা। এবার এসেছে নেকড়ে। সাথে একপাল ভেড়া। এমনি করে তার পরে এল শেয়াল সাথে এক পাল হাঁস আর মুরগী নিয়ে। আর একেবারে শেষে এল খরগোস সাথে এক থলে বোতাম আর রিবন নিয়ে। বুড়ো আর বুড়ি খুব খুসী। ভেড়ার পাল বিক্রী করে সে কিনল একজোড়া বলদ তার গাড়ী টানার জন্য, যাতে করে সে গাড়ী ভাড়া দিয়ে পয়সা রোজগার করতে পারে। আর ষাঁড়। তাঁকে বাইড়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। রোদের তাপে আসতে আসতে তার সব আলকাতরা গলে পড়ে গেল। বৃষ্টিতে খড়গুলো পচে গেল। আর একদিন সেই খড়ের ষাঁড় ধুলোতে মিলিয়ে গেল।

from Spicydilip http://ift.tt/1wYA6xU

via IFTTT

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৫

বেড়াল কেন ইঁদুর খায় (দক্ষিণ নাইজেরিয়ার উপকথা)

রাজা আনসা গত পঞ্চাশ বছর ধরে কালাবারের রাজা হয়ে রাজত্ব করছেন। গোঁয়ার গোবিন্দ,আর রগচটা রাজা, কিন্তু তার একটা বেড়াল ছিল যাকে তিনি খুব ভাল বাসতেন। বেড়ালটা আবার রাজার ভাঁড়ার আর ঘরদোরের দেখাশুনাও করত। আর ছিল একটা ইঁদুর। সেটা রাজার চাকরের কাজ করত। ইঁদুরটা ছিল কিন্তু খুব গরীব, আর সে যখন রাজামশাইয়ের এক দাসীকে ভালবেসে ফেলল তখন হল মুশকিল, কেননা কিছু দাসীকে উপহার হিসাবে কিছু কিনে দেবার পয়সাও তার কাছে নেই।

কিন্তু পয়সা না থাকলে কি হবে, একটু বুদ্ধি খরচ করে সে ঠিক করে নিল যে রাজামশাইয়ের ভাঁড়ার ঘরের থেকে কিছু নিয়ে উপহার হিসাবে দিলেই ভাল হবে। আর সেই অনুযায়ী ভাড়ারের ছাদে একটা ছোট্ট ফুটো করে ইঁদুর বাবাজী তো ভাঁড়ার ঘরে ঢুকে গেল। আর সেখান থেকে কিছু ভুট্টা আর আতা চুরি করে নিয়ে সেই দাসীকে উপহার হিসাবে দিল।

ওদিকে মাসের শেষে বিড়াল যখন ভাঁড়ারের হিসাব মেলাতে লেগেছে, তখন দেখে যে ভুট্টা আর আতার হিসাবে গন্ডগোল। বেশ কিছু জিনিষ হিসাবে কম পড়ছে।

রাজা মশাই একে রগচটা লোক, তার উপরে এই হিসাবের গরমিল দেখে বিড়ালের উপর বেশ রেগেই গেলেন। বিড়াল কিন্তু ভেবে পায়না কি ভাবে এই চুরী হয়েছে, এমন সময় তার এক বন্ধু এসে বলে যে এসব ইঁদুরের কাজ। ইঁদুর এইসব নিয়ে তার বান্ধবীকে উপহার হিসাবে দিয়েছে।

বেড়াল এসে রাজামশাইকে একথা বলতে, রাজাবশাই তো সেই দাসীকে ডেকে আচ্ছা করে মার লাগালেন।ইঁদুরটাকে বেড়ালের কাছে ছেড়ে দিলেন। আর বেড়াল আর ইদুরকে তাঁদের চাকরী থেকেও তাড়িয়ে দিলেন। বেড়াল গেল ভীষন রেগে, আর তাই ইঁদুরকে জ্যান্ত খেয়ে ফেলল।

সেই থেকে সব বেড়াল ইঁদুর দেখলেই খেয়ে নেয়।
from Spicydilip http://ift.tt/1wYA6xU


via IFTTT

বুধবার, ১১ মার্চ, ২০১৫

ব্যাঙের রাণী (মেক্সিকোর উপকথা)

এক রাজার দুই ছেলে ছিল। আর তাঁদের মধ্যে একজনের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছিল। কার সাথে, না এক সুন্দরী রাজকুমারীর সাথে। একদিন ছোট রাজকুমার তার প্রাসাদের বাগানে একটা পুকুরে তার পোষা গাধাকে জল খাওয়াতে নিয়ে গেছিল। ঠিক তখনই তার সাথে দেখা হল এক ব্যাঙ্গের রাণীর। রাণীর তো রাজকুমারকে দেখে খুব পছন্দ। রাণি তাঁকে বলে যে সে রাজকুমারকে বিয়ে করতে চায়। রাজকুমার রাজী বিয়ে করতে।

কিন্তু বিয়ে তো অনেক খরচের ব্যপার, তাই রাজকুমার গেল তার বাবার কাছে। গিয়ে বলে আমি ব্যাঙ্গের রাণিকে বিয়ে করব, আমাকে কিছু টাকা পয়সা দাও। রাজা তো অবাক। এটা কি বলে তার ছেলে। শেষকালে ব্যাঙ্গের রানিকে বিয়ে করবে। কি আর করা যায়। যাকগে তার যাকে ভাল লাগে তাকেই বিয়ে করুক। এই ভেবে দিয়ে তো দিলেন দরকার মতন কিছু টাকা। বিয়ে তো হয়ে গেল দুজনের।

 তখন রাজা মশাই বললেন যে দুই বউইয়ের মাঝে কাকে ভাওল দেখতে তা বিচার করবেন। বলে দিলেন দুজনাকেই ভাল ভাল জামা কাপড় পড়িয়ে তার সামনে হাজির করতে, যাতে তিনি ঠিক করতে পারেন কে বেশী সুন্দর। সেজন্য রাজামশাই তাঁদের দুজনাকেই একটা করে পাখি আর একটা সুন্দর দেখতে কুকুরও উপহার হিসাবে দিলেন। কিন্তু রাজকুমারদের ওখান থেকে আলাদা করে রেখে গেলেন তার ছেলেদের বউদের দেখতে।

দেখা হয়ে যাবার পরে তার পরে সবাই বসলেন খেতে। খাওয়া শেষ হবার পরে রাজামশাইয়ের একটু নাচবার ইচ্ছেও হল। তিনি বললেন তাহলে বড় বউয়ের সাথে প্রথমে নাচা যাক। সুরু হল নাচ। কিন্ত এর মধ্যে ঐ যে ব্যাঙ রাণি ছিল, সে এসে খাবার টেবিল থেকে কিছু হাড় নিয়ে মন্ত্র পড়তে শুরু করে দিলে, বড় বৌ সেটা দেখতে পেয়ে ঠিক করে ফেলল যে সেও তাহলে ছোট বউয়ের নাচের সময় এই মন্ত্র পড়ার কাজটা করবে।

এবার রাজামশাই যখন ব্যাঙের রাণীর সাথে নাচ শুরু করলেন তখন ছোট বৌ তার ঐ মন্ত্র পড়া হাডগুলোকে এক এক করে মাটীতে ফেলতে লাগল, আর ফেলার সাথে সাথেই সেগুলি সোনার হয়ে যেতে লাগল। এই দেখে বড় বৌও তার সেই মন্ত্রপড়া হাড মাটীতে ফেলতে গেলে সেই হাড় গিয়ে লাগল ছোট বউয়ের মাথায়। তার পর ছোট বৌ গেল মরে। ভালই হল, কেন না ছোট বৌ মানে ঐ ব্যাঙের রানী ছিল এক ডাইনী।

from Spicydilip http://ift.tt/1wYA6xU

via IFTTT

সোমবার, ৯ মার্চ, ২০১৫

বাদরের বাঁদরামো (সাওতালী উপকথা)

একটা সময়ের কথা বলছি যখন এক বাগানে অনেক রকমের ফল নিজের থেকেই হত আর জঙ্গলের সমস্ত জন্তু জানোয়ারেরা মনের সুখে সেগুলো খেতে পারত। কিন্তু সেটা তারা পারত একটা শর্তে। তাঁদের গিয়ে ঐ গাছের কাছে নমস্কার করে, মাথা ঝুকিয়ে বলতে হত, “ হে অমুক গাছ, আপনি কি আমাকে দয়া করে আপনার ফলের একটু স্বাদ নিতে দেবেন”। 
খেয়াল রাখতে হত যে, তারা গাছের নাম ঠিক করে বলছে, আর ঐ দয়া করে কথাটা অতি অবশ্যই বলেছে। এটাও মনে রাখতে হত যে হ্যাংলামো করে অনেক ফল পেড়ে নিয়ে নষ্ট যেন না করা হয়। তাঁদের আম খাবার ইচ্ছে হলে আম গাছের কাছে গিয়ে বলতে হত, “ ও ভাই আম গাছে , তুমি কি দয়া করে একটা আম আমাকে খেতে দেবে”। বাস। অমনি আমগাছ থেকে একটা ভাল দেখে পাকা মিষ্টি আম, তার সামনে পড়ত, আর সেটা সে খেতে পারত। 
এখন সেই বাগানের এক পাশে একটা সুন্দর দেখতে গাছ ছিল, আর তাতে সুন্দর সুন্দর দেখতে কিছু ফল হয়েছিল। কিন্তু সেই ফল কেউই খায় নি। কেন না ঐ গাছটার নামই তো কেউ জানত না। আর নাম না জানলে গাছটাকে কি নামে ডাকা হবে। 
ঐ বাগানেরই এক পাশে একটা ছোট্ট কুড়েঘরে এক বুড়ী থাকত। যদি কোন জানোয়ার কোন গাছের নাম না মনে করতে পারত, তবে তার কাছে গিয়ে জেনে আসত। বাগানে যত গাছ ছিল বুড়ী তাঁদের সব গাছগুলোর নাম জানত। এই গাছের নামও বুড়ি জানত। হলে কি হবে, গাছের নামটা এত লম্বা আর খটমট যে জানোয়ারেরা ঐ নামটা শুনে সেই বুড়ির বাড়ি থেকে গাছ পর্যন্ত আসতে আসতেই নাম ভুলে যেত আর গাছের কাছে ফল চাওয়া হত না।  ঐ বাগানে একটা বাঁদর থাকত। সেই বাঁদর আবার গীটার বাজিয়ে গানও গাইত। জন্তু জানোয়ারেরা তার গান শুনতে খুব ভালবাসত। এইবার সেই বাঁদরের ইচ্ছে হল যে ঐ নাম না জানা গাছের ফল খায়। গেল সে বুড়ীর কাছে গীটার বগলে করে। আর বুড়ীর কাছে ঐ গাছটার নামও জেনে নিল, তার পরে সেই নামটাকে নিয়ে একটা গান বানিয়ে ফেলল। গীটার বাজায় আর সেই গানটা গায়, যাতে নামটা না ভুলে যায়। জন্তু জানোয়ারেরা জিজ্ঞেস করে এটা আবার কি গান গাইছে। কিন্তু বাঁদর কোন উত্তর দ্যায় না খালি গেয়ে চলে আর সেই গাছটার দিকে হেটে। 
গিয়ে পৌঁছল সেই গাছের কাছে। কি রকম সুন্দর ফলটা দেখতে। সে কোন রকমে এটুকু মনে রেখেছিল তাঁকে নামটা দুবার বলতে হবে আর দয়া কোরে এই কথাটাও যেন বলা হয়। বাঁদর সে কথা একেবারে ভোলে নি। তাই ঠিক মত বলে দিতেই গাছ তার একটা ফল বাঁদরের সামনে দিয়ে দিল। বাঁদর সেটাকে তুলেই এক কামড়। আর তার পর ওয়াক ওয়াক থু থু।, কি বিচ্ছিরী খেতে রে বাবা। ফলের বাকীটা সে ছুঁড়ে প্রায় বাগানের বাইরে ফেলে ছিল। কিন্তু বাঁদরের বাঁদড়ামো এবার সুরু হল। সে ভাবে একা সে কেন এই বাজে স্বাদের ফল খাবার শাস্তি পায়।
 তার পর থেকে কোন না কোন জানোয়ারকে ধরে তাঁকে ঐ সুন্দর দেখতে ফলটা খাওয়াত। আর তারা যখন সেই বিশ্রী ফলটা খেয়ে মুখ ব্যাঁকাত তখন বাঁদর খুব মজা পেত। সেটাই তার বাঁদরামো ছিল।

from Spicydilip http://ift.tt/1wYA6xU

via IFTTT