বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০১৪

আটলান্টা।

আটলান্টা।

আটলান্টা, আমেরিকার এক শহর,যেখানে কিছুদিন আগেই অলিম্পিকের খেলকুদ হয়ে গেছে। কিন্তু আটলান্টা নামটা জড়িয়ে আছে এক বিখ্যাত দৌড়বিদ মহিলার নামের সাথে। এনাকে অবশ্যি মানবী শরীরে দেখা যায় নি। ইনি ছিলেন গ্রীক পুরানের এক চরিত্র। চরিত্র এই জন্য বললাম যে এনাকে কিন্তু অমর বা দেবদেবীদের পর্যায়ে ফেলা হয় নি। ইনি ছিলেন রাজা আয়াসাসের মেয়ে। মার নাম ক্লিমেনী।

আজকের ভারতীয় সমাজের মত মেয়ে হিসাবে জন্মেছিলেন বলে তার বাবা তাঁকে কাছে চাননি। জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসতে হুকুম করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তাঁকে ফেলে দিয়ে আসা হল জঙ্গলে। কিন্তু ঠান্ডা লেগে মরে যাবার আগেই এক মা-ভল্লুক তাঁকে নিজের বাচ্চার মত পালতে লাগল।  আমরা বেশ কিছুদিন আগে ওড়িষাতে  এক নেকড়ে মানুষের কথা কাগজে পড়েছিলাম, তার মতন ব্যপারটা। এই ভল্লুকীটাকে পাঠিয়েছিলেন আর্টেমিস, আটলান্টাকে বাচিয়ে রাখবার জন্য। ঐ ভাল্লুক মার কাছে আটলান্টা বড় হল আর শিকারীর দলে মিশে গেল। আসলে যদিও আটলান্টা ভাল্লুকের কাছে বড় হয়েছিল তবুও জঙ্গলে থাকার সময় সে শিকার করতে শিখে গেছিল।

ইতিমধ্যে ক্যালিডনের রাজা ইনিয়াস একবার তার বাৎসরিক ফসল তোলার পুজোতে আর্টেমিসকে পুজা দিতে ভুলে যান। বাস আর্টেমিসের মেজাজ গরম। শাস্তি হিসাবে পাঠালেন এক বিশালকায় শূকরকে । সে এসে ক্যালিডনের ক্ষেত খামার, মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করতে শুরু করে দিল। লোকে ভয়ে ঘরের বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিল। শহরের বাজারে ফসলের কম পড়তে শুরু হয়ে গেল। ইনিয়াস ডেকে পাঠালেন দেশের সমস্ত শিকারীদের যাতে তারা এসে শূকরটাকে মারতে পারে। যে মারতে পারবে তাকে প্রাইজ হিসাবে শূকরটার মাথা আর চামড়াটা দেওয়া হবে।

মারার জন্য যে সমস্ত শিকারী এসে হাজির হলেন তার মধ্যে ছিল এই আটলান্টা আর ইনিয়াসের ছেলে মেলিয়াজর। কিন্তু আটলান্টাকে মেয়ে দেখে কিফফেস আর আঙ্কিয়স নামের দুজন শিকারী তার সাথে শিকারে যেতে রাজী হল না। বাধ্য হয়ে মেলিয়াজর তাদের কোনরকমে রাজী করাল।

আবার শিকারের সময় দুজন থেসালীর অর্ধ মানব, হাইলিয়াস আর রিকাস, আটলান্টাকে মেয়েছেলে দেখে অত্যাচার করার ইচ্ছে নিয়ে জোর করতে গেলে আটলান্টা তার তীর চালিয়ে দুজনকেই মেরে ফেলেন। শিকার, শূকরের রক্তের বদলে ঐ অর্ধ মানবদের রক্ত দিয়ে সুত্রপাত হল। শেষ পর্যন্ত সেই শূকরটাকে প্রথম তীর মারতে পারল আটলান্টাই। মেলিয়াজর এসে সেটাকে তলোয়ারের আঘাতে শেষ করে দিল।

আটলাণ্টাকে দেখে মেলিয়াজরের মনে একটু ভালবাসা আর শ্রদ্ধার উদয় হয়েছিল তাই প্রথম আঘাত করার অজুহাতে প্রাইজ যেটা দেওয়া হবে বলা হয়েছিল সেটা আটলান্টাকেই দেবার জন্য বলে দিল। কিন্তু থেশটিয়সের ছেলেরা আটলান্টার কাছ থেকে সেই প্রাইজ ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করলে মেলিয়াজর তাদের মেরে ফেলেন আর আবার সেই প্রাইজ আটলান্টাকে দিয়ে দেন।

এরা সম্পর্কে মেলিয়াজরের মামা ছিলেন। আগেই ভবিষ্যতবাণী হয়েছিল যে  কুন্ডের কাঠ পুরে ছাই হলেই মেলিয়াজর মারা যাবে। সেই জন্য মেলিয়াজরের মা অ্যালথিয়া কুন্ড থেকে আধপোড়া কাঠটাকে নিয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন।ভাইদের মৃত্যু দেখে অ্যালথিয়া রেগে গিয়ে সেই কুন্ডের কাঠটাকে বার করে আগুনে ছুড়ে ফেলে দেন।   যা হবার তাই হল, মেলিয়াজরের মার ছোঁড়া কাঠটা পুরে ছাই হয়ে গেল আর মেলিয়াজর মারা গেল।

এইবার আটলান্টা বীর হিসাবে সব জায়গাতে দ্বীকৃতি পাওয়াতে তার বাবাও তাঁকে নিজের বলে স্বীকার করে নিলেন। আটলান্টা তার বাবার কাছে এলেন। এখন তিনি রাজপুত্রী, সাধারণ শিকারী নন। তার বাবা তাঁকে বিয়ে  করানোর ইচ্ছে করলে আটলান্টা এবার আর না করল না। কিন্তু তার মনে তো বিয়ের কোন ইচ্ছেই ছিল না। সোজাসুজি না বললে বাবা তাঁকে শাস্তি দিতে পারে তাই সে এক শর্ত রাখল।

তাঁকে যে দৌড়ে হারাতে পারবে সেই তাঁকে বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু যদি আটলান্টা জিতে যায় তবে পরাজিতের তাদের প্রাণ  হারাবে,কারণ আটলান্টাকে দৌড়ে তো কেউ হারাতে পারবে না তাই তার বিয়েও হবে না। লোকে আসে আর হেরে গিয়ে প্রাণ দ্যায়। 

এদিকে আর্কাডিয়ার মেলানিওন আটলান্টাকে খুব ভালবেসেছিল। সে তাঁকে বিয়ে করবার মন করলে এক চিন্তা তো তাঁকে পেয়ে বসে। কি করে দৌড়ে আটলান্টাকে হারান যেতে পারে। সে ধরে পরল আফ্রাদাইতিকে। প্রেমের দেবী আফ্রাদাইতী, তাঁকে এক প্ল্যান দিলেন আর তিনটে সুন্দর সোনার আপেল দিলেন। কিন্তু সাথে বলে দিলেন যে জিতে আটলান্টাকে পেলে পরে দুজনে মিলে তার পূজা দিতে হবে। মেলানিয়ন রাজী।

এবার মেলানিয়ন এসে আটলান্টাকে বলল আমি রাজী তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগীতাতে, আটলান্টা বলে, তুমি জান যে হেরে গেলে তোমার প্রাণ যাবে। মেলানিয়ন বলে আগে হারি তো। দৌড় শুরু হল। বেশ কিছুদূর যাবার পরে যেমনি আটলান্টা আগে এগোচ্ছে অমনি মেলানিয়ন তার হাত থেকে একটা আপেল সামনের দিকে রাস্তায় গড়িয়ে দিল। আটলান্টা দাঁড়িয়ে ওটা তুলে নিয়ে দেখতে দেখতে মেলানিয়ন আবার এগিয়ে গেল।
আটলান্টা আপেলটাকে ফেলে দিয়ে আবার দৌড় শুরু করল। আবার যখন প্রায় কাছাকাছি এসে গেছে তখন মেলানিয়ন তার দ্বিতীয় আপেলটাকে রাস্তার পাশের দিকে এমন ভাবে ছুড়ে দিল যে সেটা তুলতে গেল একটু রাস্তার বাইরের দিকে নামতে হবে। তাই হল আটলান্টা তোর কৌতূহল মেটাতে রাস্তা ছেড়ে গিয়ে আপেলটা তুলে নিয়ে দেখতে শুরু করল, ইতিমধ্যে মেলানিয়ন আবার অনেকটা এগিয়ে গেল।

আটলান্টা আবার দৌড় সুরু করল, এইবার আবার মেলানিয়ন তার শেষ আপেলটাকে রাস্তায় গড়িয়ে দিতে, আটলান্টার পক্ষে লোভ সামলান সম্ভব হল না। সে থেমে ওটাকে তুলে দেখে আবার দৌড় শুরু করে সীমানাতে পৌঁছানোর আগেই মেলানিয়ন সীমারেখা পার করে গেছে। আটলান্টাকে হারতে হল।

বেশি ধুমধামের সাথে দুজনের বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু তারা এতই আনন্দে মশগুল যে আফ্রাদাইতীকে যে পূজা দেবার কথা দেওয়া আছে তার ব্যপারে একদম ভুলে মেরে দিল। আফ্রাদাইতীর রাগ। সে রেগে গিয়ে দুজনকেই সিংহ বানিয়ে দিল।


এখানে একটা কথা । আটলান্টা তো সিংহ হয়ে গেল কিন্তু তার একটা ছেলে হয়েছিল নাম পার্থেনপাস। সেও পরে বড় হয়ে বিরাট বীর হয়েছিল। 

    

সোমবার, ২১ জুলাই, ২০১৪

সিসিফাস


রাজা সিসিফাস। গ্রীক পুরানের এক শয়তানী বুদ্ধি ওয়ালা রাজা। থেসালীর রাজা ইয়োলাসের ছেলে। সালমোনাসের ভাই, এমনিতে রাজা মশাই জ্ঞানী গুণী, ব্যবসা আর নৌচালনা সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞান রাখতেন। তার রাজ্য এই দুটো ব্যপারে বেশ উন্নত ছিল। কিন্তু  ভীষন লোভী আর ঠকবাজ ছিলেন। অবশ্যি ব্যবসাতে উন্নতি করতে গেলে সাধারণত এ দুটোর খুব দরকার পড়ে। আর আতিথ্য জিনিষটা কি তা জানতেন না বরং তার কাছে অতিথিদের অনেককেই মরতে হয়েছে।  একজন কঠোর রাজা হিসাবে সিসিফাসের বেশ নামডাক ছিল। এদিকে তার ভাই এর সাথেও বিশেষ বনিবনা না থাকায় কি ভাবে ভাই সালমোনাসকে মেরে ফেলা যায় তার প্ল্যান কষতে ডেলফির জ্যোতিষীদের কাছে মতামত নিতে গেছিলেন।
নদীর দেবতা আসপসের মেয়ে আইজিনাকে জুস কোথায় নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন সেটাও তার বাবার কাছে জানিয়ে দিতে ভোলেন নি। তার ফল হল করিন্থের  সভাঘরের মাঝ দিয়ে এক ফোয়ারা উঠে সভাঘরটাকে নষ্ট করে দিল।
মানে তার কীর্তিকলাপে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। জুসের শাস্তি আসবেই। জুস বলে দিলেন থানেটসকে যে চিত্রগুপ্ত হিসাবে কাজ করছিল তাঁকে যে যাও গিয়ে সিসিফাসকে ধরে বেঁধে নিয়ে এস।
সিসিফাস দেখে থানেটস এসে হাজির। ভাবল সাধারণত সংবাদ বাহক  বা পিয়ন হিসাবে তো হারমিস কাজ করে , সে কেন আসে নি। কূটবুদ্ধি তার মাথায় গজগজ করছে। থানেটসকে ভাল মানুষের মত জিজ্ঞেস করে বসল তার চেনটা দিয়ে কি ভাবে কাউকে বাধা হয়। থানেটস ভাল মানুষের মত যেই দেখাতে গেছে অমনি সিসিফাস তাকে ঐ চেন দিয়ে বেঁধে রাখল। চারদিকে হাহাকার, থানেটস পৃথিবীতে আটকা পরে আছে, যতক্ষন না সে যমপূরীতে ফিরে যাবে ততক্ষণ কোন লোক মারা যাবে না। কিন্তু লোক তো জন্মাবে। অর্থাৎ কিছুক্ষণের মধ্যে পৃথিবীতে লোকের ভীড় লেগে যাবে। যুদ্ধের দেবতা শেষ পর্যন্ত তার শত্রুপক্ষের লোকে মরছে না দেখে ক্ষেপে গিয়ে সিসিফাসকেই আটকে রেখে দিলেন। থানেটস মুক্তি পেল। আর সিসিফাসকে নিয়ে যমপূরীর দিকে রওয়ানা দিল।
কিন্তু সিসিফাসের বুদ্ধি কি তাতেই হার মানে।
থানেটস তাঁকে নিয়ে যাবার আগে সে তার স্ত্রীকে বলে দিল যে তার সমস্ত জামাকাপড় খুলে নিয়ে রাস্তার চৌমাথায় দেহটাকে মরে যাবার পরে ছুড়ে ফেলে দিতে। সিসিফাসের স্ত্রীর মাথায় কারণটা ঠিক ঢোকে নি কাজেই সে তাই করল। এইবার সিসিফাসের প্রেতাত্মা ষ্টীক্স নদীর পাড়ে গিয়ে দাড়িয়ে আছে, আগে যাবার হুকুম নেই। যমের জিজ্ঞাসাতে সিসিফাস বলল যে তার অন্তিম সংস্কার এখনো হয়নি। তার স্ত্রী কেন জানিনা কাজ করে নি, কাজেই সে চায় পৃথিবীতে ফিরে গিয়ে স্ত্রীকে দিয়ে অন্তিম সংস্কার করিয়ে তার পর ফিরে আসবে।  বাধ্য হয়েই পেরসেফণি (যমরাজা) তাঁকে আবার ফেরত গিয়ে তার স্ত্রীকে দিয়ে অন্তিম সৎকার করিয়ে আসতে বলল। আর তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিল। সিসিফাস খুসী মনে ফিরে এল। তার স্ত্রীকে এল্টু লোকদেখান বকুনী লাগাল। বাস অতটাই। তাঁকে যে অন্তিম সৎকার করিয়ে ফিরে যেতে হবে তার আর হুঁশ নেই।
বাধ্য হয়েই যমরাজ তাঁকে জোর করেই যমপূরীতেই টেনে আনলেন। আর শাস্তি বললেন, তোমার যখন পৃথিবীতে থাকার এতটা সখ তুমি যাও, তোমায় কিন্তু একটা কাজ আগে করতে হবে । ঐ বড় পাথরটাকে গড়িয়ে নিয়ে পাহাড়ের ওপারে ঠেলে ফেলতে হবে। আর ওপারে চলে গেলেই তুমি নর্মাল। কিন্তু পাথরটাকে ওপারে নিয়ে যেতে না পারলে তোমার কাজ শেষ হবে না।
সিসিফাস লাফাতে লাফাতে চলে গেল পাথরটাকে গড়িয়ে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে ওপারে নিয়ে যেতে। কিন্তু জুসের সাথে চালাকী? জুস ঐ পাথরটাকে মন্ত্র বলে এমন করে দিলেন যে যখনি পাথরটা পাহাড়ের চূড়াতে পৌছায় তখনই সেটা আবার সিসিফাসের হাত ফস্কে নিচে গড়িয়ে আসে। সিসিফাসকে আবার নীচে এসে ওটাকে উপরে নিয়ে যাবার চেষ্টা করতে হয়।
এখনো কিন্তু সিসিফাস ঐ কাজটা করে যাচ্ছে। আর মনে হয় কোন দিনই কাজটা শেষ হবে না।  চালাকী দ্বারা মহৎ কাজ হয় না।      


 

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

ট্যান্টালাসের কথা

ট্যান্টালাসের কথা


আমাদের মধ্যে যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করেছেন তারা ট্যান্টালাস কাপ এর এক্সপেরিমেন্ট করেছেন বা দেখেছেন। একটা কাপের মধ্যে একটা মূর্তি থাকে আর তাতে জল ঢালতে লাগলে যখনই লোকটার মুখের কাছে জল পৌছায় তখনই কাপের থেকে নীচ দিয়ে বেড়িয়ে যায়। লোকটার ঠোঁট অবধি আর পৌছায় না।  মূর্তিটার জল খাওয়া আর হয়ে ওঠে না। সাথের ছবিটাতে এই রকম একটা কাপের আধখানা কেটে দেখান হয়েছে। ট্যান্টালাসের মুর্তি থাকবে ঠিক মাঝের অংশটাকে ঘিরে।

 কিন্তু কে এই লোকটা যার নাম  ট্যান্টালাস। ইনি গ্রীক পুরানের এক চরিত্র।  জুস দেবের ছেলে, তাঁকে সারাক্ষন তৃষ্ণার্ত করে রাখার শাস্তি কে দিল আর কেনই বা।  অবশ্যি তার দোষটা ছিল মারাত্মক। জুসের ছেলে তাই দেবমহলে তার আনাগোনা হামেশাই। একসাথে পানভোজন চলে।  আমাদের মত রিটার্ন ফিষ্ট দেবার কথাও থাকে। এমনি  এক ভোজসভা যখন ট্যান্টালাসের বাড়িতে হবে, তখন ট্যান্টালাসের মাথায় এক কুবুদ্ধি জেগে উঠল। ট্যান্টালাস দেখতে চাইল যে জুস তো বলে সে সব কিছু জানতে পারে, বুঝতে পারে, একবার পরীক্ষা করেই দেখা যাক।  সিপিলসের রাজা তিনি, তার পক্ষে বিশেষ কিছু করা একটা খুব কঠিন কাজ নয়।

ট্যান্টালাসের ছেলে ছিল পেলপ্স। ট্যান্টালাস পেলপ্সকে মেরে তাকে টুকরো করে মাংসের সাথে মিশিয়ে রান্না করে ফেলল। মানুষের মাংস রান্না তা কি হয়েছে। গ্রীক পুরাণ ঘাঁটলে এরকম হাজার উদাহরণ পাওয়া যাবে। আর নিজের ছেলে মেয়ের কথা। তাও আছে । আগামেমনন ট্রয় যুদ্ধে যাবার আগে আর্টেমিসকে তুষ্ট করতে যে ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন, তাতে তার মেয়ে ইফাগানিয়াকে মেরে তার মাংস দিয়ে ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। আগামেমনন আবার এই ট্যান্টালাসের নাতির ছেলে।

খাবার খেতে বসে জুস একটা সন্দেহ করে ট্যান্টালাসের কাছে মাংসের হাড়িটা দেখতে চাইলেন, বাস এবার তো ধরা পরে গেছে কাজেই শাস্তি। কিন্তু পেলপ্সের কি হবে। বেচারাকে নাহক মরতে হয়েছে। জুস তাই তাঁকে আবার বাচিয়ে তুললেন। ইতিমধ্যে অন্য দেবতারা খাওয়া চালু করে দিয়েছিলেন। ডেমেটার এক টুকরো মাংস তো খেয়েই ফেলেছিলেন, সেটা আবার দেখা গেল পেলপ্সের কাঁধের টুকরো। কি করা যায়? কাঁধ ছাড়া পেলপ্স? তাহলে তো কাজকর্মে অসুবিধা হবে। ডেমেটার তাই একটা হাতীকে মেরে তার দাঁত দিয়ে কাঁধের ঐ জায়গাটা বানিয়ে লাগিয়ে দিলেন। সব ঠিক হয়ে গেল।

এবার ট্যান্টালাসের শাস্তি। তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে তারতিয়াস হ্রদের মধ্যে আটকে রাখা হল। একটা আপেল গাছের নীচে। ট্যান্টালাসের জল তেষ্টা পেলে সে যেই হ্রদের জল খেতে যায় অমনি জল দূরে সরে যায়। আবার আসতে আসতে জল কাছে চলে আসে। মানে লোভ দেখিয়ে জ্বালাতন করা। আর ক্ষিদে পেলে, সেখানেও হাতের কাছেই ফল, কিন্তু পাড়তে গেলেই ফলগুলো শুদ্ধু ডালটা উপরে সরে যাবে এমনই অবস্থা।

অনাদিকাল থেকে ট্যান্টালাসকে তার শাস্তি এইভাবেই পেয়ে যেতে হচ্ছে। ইংরাজী ট্যান্টালাইজ (Tantalize)কথাটা এই ট্যান্টালাসের নামের থেকেই এসেছে।


প্রমিথিয়াস

বিশৃঙ্খলার মধ্যে যখন বিশ্বের আদি পর্ব চলছে তখন আকাশ, সমুদ্র আর পৃথিবী আলাদা হবার পরে দেবতারা ঠিক করলেন যখন সমস্ত দেবদেবীর সাথে টাইটানদের যুদ্ধে টাইটানেরা জয়ী হয়েছেন তখন মানুষের সৃষ্টি করা যাক।  এখন তাদের  বসবাস করের জন্য জমির সৃষ্টি হয়েছে। আরা এই মানুষেরাই তো দেবদেবীদের পুজা অর্চনা করবে।  অতএব মানুষ তৈরী করার ভার দেওয়া হল প্রমিথিয়াসকে আর সাথে তার ভাই এপিমিথিয়াসকে।

লেগে পড়লেন দুজনেই তাদের কাজে। এপিমিথিয়াস  হঠকারী গোঁয়ার, বুদ্ধিবিবেচনা একটু কম।  পিছনের অভিজ্ঞতা তার সব কাজেই সে লাগাতে চায়, কোন কিছুতে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চায়না। আর সে জায়গাতে প্রমিথিয়াস ধীর স্থির, বুদ্ধিমান এবং যথেষ্ট বুদ্ধি সম্পন্ন, প্রচুর দুরদৃষ্টির অধিকারী।

এপিমিথিয়াস চটপট কিছু প্রাণীর সৃষ্টি করলেন যারা কেউ জঙ্গলে থাকবে, কেউ আকাশে উড়বে, আবার কেউ জলেও চলে বেড়াবে। মানে জানোয়ার, পাখী, মাছ ইত্যাদি তৈরী হয়ে গেল। ওদিকে প্রমিথিয়াস ধীরে ধীরে মাটী দিয়ে দেবতাদের আদলে মানুষ তৈরির কাজে লেগে রইলেন। তিনি চাইলেন যে মানুষেরা যেন উপর দিকে তাকিয়ে ভগবানকে দেখতে পারে। তার সৃষ্টি সম্পুর্ণ হতে অনেক সময় লেগে গেল। 

তার মধ্যে এপিমিথিয়াস তার তৈরী করে প্রাণীদের কাউকে দিলেন গতি, কাউকে দিলেন ধারাল নখ আক্রমণ করার জন্য, কাউকে বা শক্তি। ওদিকে প্রমিথিয়াসের মানুষ সৃষ্টি শেষ হলে দেখা গেল ভগবানের দেওয়া গুণ গুলোর প্রায় সবই এপিমিথিয়াস তার তৈরী প্রানীদের কাজে লাগিয়ে ফেলেছে। মানুষের জন্য কিছুই পড়ে নেই। মানুষ নিজেকে নিজে রক্ষা করার মত কোন কিছুর অধিকারী হতে পারেনি। সে এক উলঙ্গ শিশুর মত সহায়সম্বলহীন হয়ে রয়েছে।

প্রমিথিয়াস খুব মুশড়ে পড়লেন। কি করা যায়। দিন রাত মানুষদের জন্য চিন্তা করে অলিম্পাস পাহাড়ে আর তার থাকতে ভাল লাগে না, চলে এলেন তিনি মানুষদের সাথে থেকে যদি তাদের কোন কিছু সুবিধা করে দিতে পারেন। এদিকে মানুষেরা তো দেবদেবীদের পূজা করবে আর তাদের অর্ঘ্য দেবেই। প্রমিথিয়াস দেখলেন যে সমস্তটাই তো দেবতারা নেন না, এদিক ওদিক থেকে নিয়ে বাকীটা ছেড়ে দেন। তিনি জুসের কাছে আর্জি করলেন যে বলির পশুর একটা নির্দিষ্ট ভাগ আপানি নিয়ে বাকীটা মানুষদের জন্য ছেড়ে দিন। জুস  বললেন, আমি তো ঠিক করব কোন ভাগটা আমি নেব। প্রমিথিয়াস বললেন এটা কিন্তু বরাবরের জন্য, আজ এই ভাগ, কাল ঐ ভাগ করলে মানুষদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে , জুস বললেন তথাস্তু।

প্রমিথিয়াস করলেন কি একটা পশু মেরে এক ভাগে তার মাংসটাকে ছাল দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখলেন, আর অন্য ভাগে মাথাটা, থানাথানা চর্বিওয়ালা হাড়ের টুকরো রাখা হল। জুসকে এবার ডেকে তার ভাগটা বেছে নিতে বলা হল। জুস দেখে এক দিকে অল্প কিছু মাংস পশুর ছাল দিয়ে ঢাকা আছে। আর অন্য দিকে বিরাট মাথাটা আর চরবি সমেত বড় বড় হাড়ের টুকরো রাখা আছে, দেখতে অনেকখানি। জুস ঠিক করে নিলেন এই বেশী জিনিষের ভাগটাই নেবেন।  সেই থেকে মানুষেরা জানোয়ার মেরে তার মাথা আর হাড় পুজার জন্য ছেড়ে নিজেরা মাংসের ভাগ পেতে লাগল। জুস দেখল যে সে ঠকে গেছে, কিন্তু নিরুপায়।

তার পরে প্রমিথিয়াস দেখলেন মানুষেরা ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছে, কাঁচা মাংস তাদের খেতে হচ্ছে। ভাবলেন যদি এদের আগুন জ্বালানোর ক্ষমতা দেওয়া যেত তবে এরা নিজেদের রক্ষা করতে পারত,। কিন্তু আগুন তো খালি  দেবরাজ জুসের কাছেই অলিম্পাস পাহাড়ে আছে। জুস কি তার থেকে কিছুটা মানুষদের জন্য দেবেন?

প্রমিথিয়াস গেলেন আর্জি নিয়ে জুসের কাছে, একটু আগুন যদি আপনি দেন তবে আমার তৈরী মানুষেরা নিজেদের রক্ষা করতে , শীতে গুহার ভেতরে কষ্ট না পেয়ে থাকতে পারে। জুস এমনিতে বেশ হঠকারী দেবতা, সোজা বলে দিলেন এক্কেবারেই না। কোন মতেই মানুষদের আগুনের ভাগ দেওয়া হবে না।

জুসের স্ত্রী হেরা, বরাবরি জুসের সাথে বিরোধে থাকতেন। তিনি প্রমিথিয়াসকে বলে দিলেন আমি তোমাকে সাহায্য করব। তুমি কিছু উপায় চিন্তা কর। প্রমিথিয়াস এক সময় দেখলেন, মৌরী গাছের ডালগুলো ফাপা কিন্তু তার ভেতরের অংশটা একটু ভিজে ভিজে থাকে,  বাস পেয়ে গেছি। এইবার সোজা জুসের দরবারে গিয়ে একটু সুযোগ বুঝে ঐ মৌরী গাছের ডালের ডগাতে বজ্রের একটু স্ফুলিং নিয়ে নিতেই সে আগুন ভেতেরের ভিজে অংশে চলে গিয়ে আস্তে আস্তে এগোতে লাগল। প্রমিথিয়াস সেই আগুন ওয়ালা ডালটা নিয়ে সোজা এক দৌড়ে মানুষদের গুহাতে, লোকদের ডেকে সেই আগুন কে বাচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হল। লোকেরা আলো তাপ সব পেয়ে সুখে রইল।

ইতিমধ্যে একদিন জুস অলিম্পাস পাহাড় থেকে দেখলেন যে নীচে আলো, তার মানে আগুন। কোথা থেকে পেল, একটু খোঁজ করতেই জানা গেল প্রমিথিয়াস সেই আগুন জুসের বজ্রের থেকে চুরি করে মানুষদের দিয়েছে। বাস তাহলে শাস্তি দিতে হয়। চুরি মহাঅন্যায় আর যখন জুস আগুন দিতে মানা করেছিলেন তখন পরমিথিয়াস সেটা চুরি করে ভীষণ অন্যায় করেছে,। তার আগে বার বার জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও প্রমিথিয়াস জুসকে বলেন নি যে তার কোন ছেলে তাঁকে রাজ্যচ্যুত করবে তার মানে প্রমিথিয়াস জুসের বিরোধী পক্ষ।

প্রমিথিয়াসকে ধরে আনা হল। তাঁকে ককেশাস পাহাড়ে শেকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখা হল। রোজ জুস একটা ঈগল পাখীকে পাঠাতেন প্রমিথিয়াসের পেটের থেকে মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে । আর রোজ রাত্রে প্রমিথিয়াস অমর বলে তার ক্ষত নিরাময় হয়ে যেত। এই শাস্তি চলল বহুদিন। জুস বলে দিয়েছিলেন প্রমিথিয়াসের  বদলে কারুর প্রান চাই, এবং কোন মর্তবাসী এসে ঈগল্টাকে মেরে প্রমিথিয়াসকে শেকল থেকে মুক্ত করতে হবে। আর নয়তো তার কোন ছেলে জুসের রাজয়্ব নিয়ে নেবে সেটা তাঁকে জানাতে হবে। আর না হলে বাধা থেকে থেকে প্রমিথিয়াস পাহারের একটা অংশই হয়ে যাবে। শেষে হেরাক্লেস এসে ঐ ঈগলটাকে মেরে ফেললেন আর চিরান এবং সেন্টর , দুজনে প্রমিথিয়াসের বদলে মরবার জন্য রাজী হয়ে গেলে প্রমিথিয়াস ফিরে এলেন।   


সোমবার, ৭ জুলাই, ২০১৪

আসুন অঙ্ক শিখি

আসুন অঙ্ক শিখি  প্রথম এবং দ্বিতীয় খন্ডে আমার অসাবধানতাবশতঃ এই সূত্রটির জায়গাতে অন্য কিছু লেখা চলে গেছিল। জনৈক নামহীন পাঠক এই ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে আমাকে ঋণজালে আবদ্ধ করেছেন। তাঁকে অনেক ধন্যবাদ।


অন্তর্দশকেপি সুত্র


যখন গুনক দুটি বাদিকের খন্ড দুটি সমান এবং ডান দিকের অংশ দুটির যোগফল দশ (১০) বা তার গুনিতক (যথা ১০০, ১০০০, ১০০০০) হবে তখন এই সূত্রের প্রয়োগ করা হবে। উদাহরণ হিসাবে আমি এখানে কয়েকটি অঙ্ক করে দেখাচ্ছি।

প্রথম উদাহরণঃ
১২  X  ১৮
এখানে গুনক দুটির বাদিকের খন্ড হল ১ এবং ডান দিকের খন্ডের যোগফল  ২ + ৮ = ১০
এই অবস্থাতে প্রথমে ডান দিকের খন্ডের অংশ দুটিকে গুন করছি।
অর্থাৎ ২ X ৮ = ১৬ ; এই সংখ্যাটি আমাদের উত্তরের ডান দিকে থাকবে।
এবার বাদিকের সংখ্যার সাথে ১ যোগ করে আমরা পেলাম ১ + ১ = ২ ;
এই ২ আর ১ এর গুন ফল হল ২, যে সংখ্যাটা বাঁ দিকে বসল।
সব মিলিয়ে আমার উত্তর এল ২১৬।

দ্বিতীয় উদাহরণঃ
৬৩ X  ৬৭

এখানে বাঁদিকের খন্ডের সংখ্যা হল ৬ এবং ডান দিকে আছে ৩ এবং ৭  যোগফল ৩ + ৭ = ১০
সুতরাং  নিয়ম অনুসারে ৩ X ৭ = ২১ যাচ্ছে ডান দিকে
এবং  ৬ + ১ = ৭ তাই ৬ X ৭ = ৪২ যাচ্ছে বাঁ দিকে।
উত্তরের সংখ্যাটা দাড়াচ্ছে  ৪২২১।

তৃতীয় উদাহরণঃ
১০২ X  ১০৮

ওখানে বাঁদিকের খন্ড হচ্ছে ১০  আর ডানদিকের  খন্ড হচ্ছে ২ আর ৮ ।
নিয়মানুসারে ২ X ৮ =১৬  আর ১০+১ = ১১ এবং  ১১ X ১০ = ১১০
সুতরাং আমাদের উত্তর হল ১১০১৬।

চতুর্থ উদাহরনঃ
১০২ X  ১৯৮

এখানে বাদিকের সংখ্যা হল ১
এবং ডানদিকের খন্ডে আছে ২ এবং ৯৮ যোগফল ২ + ৯৮ = ১০০
নিয়মানুসারে বাঁ দিকে থাকছে ১ X (১+১) = ২
এবং ডানদিকে থাকছে ২ X ৯৮ =  ১৯৬
যেহেতু ২ + ৯৮ = ১০০  (১ এর পরে দুটি শূন্য)তাই
ডানদিকে আমাদের (২ +২ =৪)টি সংখ্যা বসবে
অতএব ২ থাকছে বাদিকে থাকছে ০১৯৬
আমাদের উত্তরের সংখ্যা হচ্ছে  ২০১৯৬

পঞ্চম উদাহরণঃ
১২৯৯৯৫ X  ১২০০০৫

বাঁ দিকের খন্ডে থাকছে ১২ এবং ডান দিকের খন্ডে থাকছে ৯৯৯৫ এবং
ডান দিকের খন্ডের যোগফল  ৯৯৯৫ + ৫ = ১০০০০ ( দশের পরে চারটি শূন্য)
সুতরাং আমাদের ডানদিকের খন্ডে মোট (৪ + ৪=৮) আটটি সংখ্যা বসবে
৯৯৯৫ X ৫ = ৪৯৯৭৫ অ্যাট সংখ্যা বানিয়ে হল ০০০৪৯৯৭৫
এটি থাকবে ডানদিকে
বাঁ দিকের ১২ +১= ১৩ এবং ১২ X ১৩= ১৫৬
সুতরাং আমাদের উত্তর হল ১৫৬০০০৪৯৯৭৫

আশা করি এবার আমার লেখাটা সহজ হয়েছে।


বৃহষ্পতিবার, ৫ জুন, ২০১৪

জরাসন্ধের কথা

সে অনেকদিন আগের কথা। গঙ্গার তীরে এক রাজ্য ছিল নাম ছিল তার মগধ। ভারতে তখন আর্যেরা এসে তাদের পত্তন ভাল ভাবে শুরু করেনি। এই রাজ্যের রাজার নাম ছিল বৃহদ্রথ। তিনি কাশী রাজের দুই জমজ কন্যাকে বিয়ে করেন। সাধারণত; যেখানে দুটি কন্যার এক জনের সাথে বিয়ে হয় সেখানে যে কোন এক স্ত্রী তার স্বামীর প্রিয়পাত্র হন আর সেটাকে এড়ানোর জন্য  তাই বৃহদ্রথ প্রতিজ্ঞা করেন যে দুই স্ত্রীর মধ্যে কোন তফাৎ তিনি রাখবেন না। 

কথাটা বলা খুব সোজা, কিন্তু কাজের বেলায় সেটাকে পালন করা যে কি অসুবিধার সেটা আজকে অনেক ভুক্তভোগীরাই বোধ করেছেন এবং সেটা বিবাহ পূর্ব প্রেমিকাদের ক্ষেত্রেও। তখনকার দিনে প্রাক বিবাহ প্রেমের এবং দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে কোন বাধা নিষেধ ছিল না কাজেই এই রকম নিক্তি মেপে প্রেম বেশ কষ্টকর ছিল।

বৃহদ্রথ যদিও তার প্রতিজ্ঞার প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছিলেন কিন্তু এর ফলে তার শরীর ও মনের উপর অত্যধিক চাপ পড়ছিল। একসাথে দুই স্ত্রীর মনোরঞ্জন করা খুব সহজ কাজ বলে মনে করবেন না। আর তাও যদি তারা যমজ হয়। এমনিতেই তো তাদের চেহারা দেখে আলাদা করা বিশেষ দুরূহ ব্যপার।

দিন যায়। রাজার মনে প্রচন্ড দুঃখ তার কোন পুত্র হয়না। তার মৃত্যুর পরে এই বিশাল সাম্রাজ্যের কে রাজা হবে।  এদিকে তার তিন অক্ষৌহিণি সেনা নিয়ে আশপাশের রাজা, সামন্ত দের মনে একটা ভীতি জাগিয়ে রাখতে সক্ষম হলেও রাজার মনে কিন্তু যমের সম্বন্ধে একটা ভীতি ছিল। কবে কোন দিন মরে যাব আর রাজ্যের কি হবে।

শেষকালে যখন দেখা গেল তার আর যৌবনের অতি অল্পই অবশিষ্ট রয়েছে তখন তিনি গেলেন এক সন্ন্যাসীর কাছে। মুনি সন্ন্যাসীর নাম চন্ডকৌশিক। তিনি নানান রকম মন্ত্র পরে একটা আম বৃহদ্রথকে দিয়ে বললেন এটা তোমার স্ত্রীকে খাইয়ে দিলে তার এক পুত্র হবে। রাজা ড্যাং ড্যাং করে নাচতে নাচতে প্রাসাদে ফিরেই পড়লেন বিপদে। আম পেলেন একটা আর স্ত্রী আছে দুটো। কাকে খাওয়াবেন।  পার্সোনাল ব্যপার হবার জন্য  মন্ত্রীদের কাছ থেকে কোন রকম শলা পরামর্শ নিতে পারা যাবে না।

অনেকক্ষণ ভাবার পরে ডাক দিলেন লে আও চাকু। মানে তিনি ছুরী দিয়ে আমটিকে লম্বালম্বি  দুটুকরো করে দুই রাণীকে খেতে দিলেন। নো পার্শিয়ালিটি  বাবা। রানীরা তো আমের টুকরো খেলেন। যথা নিয়মে তারা মা হলেন। দুজনেই একসাথে ছেলের মা হলেন। কিন্তু কি বিপদ। রাজা মশাই আমটাকে দুটুকরো করে আধখানা করে খাইয়েছিলেন তাই ছেলেও আধখানা করে হল। আধখানা মাথা, আদ্ধেক শরীর, একটা পা, একটা হাত। রাণিরা হাহুতাশ করছেন আর ধাইএরা ঐ আদ্ধেক শরীর দুটো  প্রাসাদের বাইরে নিয়ে গিয়ে দূরে ফেলে দিল। ছেলের আদ্ধেক হলে কি নামে ডাকা হবে, ছে না লে না অন্য কিছু, তা ঠিক করতে পারলাম না তাই আমি টুকরোই বললাম।  টুকরো দুটোতে প্রাণ ছিল কিন্তু।

রাজার প্রাসাদে এক রাক্ষসী থাকত  (এখানে রাক্ষসী মানে কোন বৈদ্য বা সার্জন মেনে নিতে হবে)। নাম ছিল তার জরা। সংস্কৃতে জরা শব্দের মানে হছে বৃদ্ধাবস্থা। এই রাক্ষসীও অনেক জ্ঞানের ভারে বৃদ্ধা হয়েছিলেন। তিনি সন্ধ্যার আধেক আঁধারে একটু সান্ধ্যভ্রমণে বেড়িয়ে দেখেন  দুটি আদ্ধেক শরীর পড়ে আছে। বুড়ি হলেও নিজের হাতের উপর অনেক আস্থা ছিল তাই ঠিক করলেন একবার নিজের কারিকুরী প্রয়োগ করে চেষ্টা করে দেখবেন যে দুটোকে জুড়ে দিলে চেহারাটা কি রকম হয়। যা ভাবা তা কাজে শুরু। কিচ্ছুক্ষণের মধ্যে দুটো টুকরো একসাথে হল। এক্কেবারে আলিবাবা আর চল্লিশ চোরের গল্পের বাবা মুস্তাফার জুড়ে দেবার মতন। কোন দাগ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না যে কোথায় জোড় লাগানো হয়েছে। এক সুপুরুষ বাচ্চা ছেলে। জরা তাঁকে কোলে তুলতে গিয়ে দেখে বেজায় ভারী।

জরা যখন বাচ্চাটাকে তোলবার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভাবছে কি করবে, ছেলেটা তার মধ্যেই নিজের হাতের মুঠি মুখে পুরে চিৎকার করে কান্না সুরু করে দিল। সে কি ভীষণ আওয়াজ। যেন মেঘ ডাকছে আর বাজ পড়ছে। লোকে ভয়ে পেয়ে গেল। কিন্তু রাণি দুজন তাদের বাচ্চার গলা ঠিক চিনতে পেরেছিল। বৃহদ্রথ তার দুই স্ত্রীদের নিয়ে বাইরে এসে জরার কাছ থেকে বাচ্চাকে কোলে নিল আর তার দেখাশুনো শুরু করেদিল। প্রথমে একটু মুশকিল দেখা দিলেও দুই রাণি প্রায় চ্যাংদোলা করে বাদ্দাটাকে তুলে নিয়ে খাওয়াতে শুরু করে দিল।

জরা বাচ্চাটাকে জুড়ে দিয়েছিল বলে তার নাম রাখা হল জরা + সন্ধ ( সন্ধি থেকে) বা জরাসন্ধ। 

জরাসন্ধের যৌবন প্রাপ্তির পরে পিতা বৃহদ্রথ তখনকার প্রথা অনুযায়ী তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে বনবাসে গেলেন। আর যাবার আগে জরাসন্ধ কে সিংহাসনে বসিয়ে গেলেন।  শক্তিশালী জরাসন্ধ তার শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে লাগল। একে একে  নরকাসুর, পুন্ড্র বাসুদেব, ছেদি রাজা শিশুপাল, শুভা রাজা শল্ব  আর বিশ্বমক তার সাথী হলেন।  এই সময় বনাসুরের পরামর্শ অনুযায়ী জরাসন্ধ তার দুই মেয়ে অস্তি আর প্রাপ্তি কে মথুরার নরপতি কংসের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। 

ওদিকে কংসের সাথে কৃষ্ণের ভীষণ ঝগড়া। মথুরার রাজা কংসের সাথে কৃষ্ণের যুদ্ধে,  কৃষ্ণের হাতে কংসের মৃত্যু হলে পরে জরাসন্ধ প্রচন্ড রেগে গিয়ে তার গদাটা ৯৯ বার ঘুরিয়ে মথুরাতে কৃষ্ণের উদ্দেশে ছুঁড়ে মারেন। তার এমন শক্তি যে সেই গদা ঘুরপাক খেতে খেতে মথুরার কাছের এক জায়গাতে গিয়ে পড়ে। যেখানে পড়েছিল সেখানে কৃষ্ণ ছিলেন না বলে বেঁচে যান। এই জায়গার নাম হয়ে যায় গদাবসান।  দেখা গেছে যে এই গদাবসানের থেকে জরাসন্ধের রাজধানী গিরিব্রজ ঐ ৯৯ যোজন দূরে।
এই সময় বলরামের সাথে যুদ্ধে কংসের সহযোগী রাজা হংসের মৃত্য হলে মনের দুঃখে তার সহযোগী অন্য রাজা ডিম্বক জলসমাধি নিয়ে প্রাণত্যাগ করেন।কংসের মৃত্যুতে  তার স্ত্রী অস্তি জরাসন্ধের কাছে গিয়ে তার স্বামীহন্তা কৃষ্ণকে মেরে ফেলার জন্য আবেদন করেন। জরাসন্ধ যাদবকুল কে বার  বার আক্রমণ করতে থাকেন। বিপদ দেখে কৃষ্ণ মথুরা ছেড়ে দ্বারকাতে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। দ্বারকা দ্বীপের মধ্যে হবার জন্য সেখানে আক্রমনের সম্ভাবনা কম। মানে যাদবকুল অর্থাৎ কৃষ্ণ এবং বলরাম তাদের পুরো পরিবার নিয়ে জরাসন্ধের ভয়ে মথুরা ছেড়ে পালিয়ে গেলেন। 

এদিকে যুধিষ্ঠির মনে মনে ঠিক করেছেন এক রাজসুয় যজ্ঞ করা যাক। কিন্তু কৃষ্ণ এসে বললেন, যতদিন জরাসন্ধ জীবিত আছে ততদিন আপনার পক্ষে রাজসূয় যজ্ঞ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা বর্তমানে সমস্ত রাজারাই জরাসন্ধের পক্ষে আছেন। নেহাত আপনার মামা পুরুজিত আপনার পক্ষে আছেন, আর জরাসন্ধের বিরোধ করে এই রাজসূয় যজ্ঞ করা সম্ভব হবে না।
যুধিষ্ঠির ভাবলেন তাহলে সব কাজ বৃথাই যাবে কেননা রাজসূয় যজ্ঞ না করলে তিনি রাজাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হতে পারছেন না। কি করবেন ভাবছেন, তখন কৃষ্ণই আবার বললেন তাতে চিন্তার কি আছে। জরাসন্ধ কে আক্রমণ করে মেরে ফেললেই হয়। অবশ্যি মহাদেবের বরে জরাসন্ধ ছিয়াশী জন রাজাকে বন্দী করে তার রাজধানীতে আটকে রেখেছে। আর চোদ্দজন রাজাকে পেলেই এই একশো রাজাকে বলি দিয়ে সে মহাপরাক্রমশালী হয়ে যাবে। কাজেই যদি জরাসন্ধকে হারাতে হয় তবে এই রাজাদের মুক্তি দিলে তারাও আপনার হয়ে লড়বেন এবং জরাসন্ধ কে আপনি সহজেই হারাতে পারবেন।

যুধিষ্ঠির পরলেন দ্বিধায়। একদিকে রাজসূয় যজ্ঞের ইচ্ছে আর অন্য দিকে ভাই ভীম  আর অর্জুনকে হারানোর ভয়। অর্জুন এবং ভীম তো মনে মনে খুসী এইবার চান্স পাওয়া গেছে কিছু একটা করে দেখানোর। বলে দাদা চিন্তার কি আছে। এই যাব, মারব আর ফিরে আসব। আর যদি ভয় পেয়ে থাক তবে রাজ্য ছেড়ে বনে গিয়ে থাকলেই হয়। রাজা হয়ে থাকতে গেলে যুদ্ধ ইত্যাদি করতেই হবে।

কৃষ্ণ বলেন যে জরাসন্ধ তার শক্তি সম্বন্ধে খুব গর্বিত। তাঁকে সন্মুখ যুদ্ধে হারানো অসম্ভব। তাই কৌশল করতে হবে। আমরা তার প্রাসাদে ছদ্মবেশে গিয়ে আর সুযোগ বুঝে তাঁকে মল্লযুদ্ধে হারিয়ে দিতে পারি। তার শক্তি তাঁকে গর্বিত করেছে তাই সে আমাদের মধ্যে ভীমকেই বেছে নেবে লড়াই করবার জন্য। আর ভীম স্বচ্ছন্দে তাঁকে বধ করতে পারবে।

তাই হল। কৃষ্ণ কে নিয়ে অর্জুন আর ভীম সাধারণ বেশে বেড়িয়ে পরল জরাসন্ধের প্রাসাদে যাবার জন্য। হস্তিনাপুর থেকে মগধ কি একটু খানি রাস্তা। তার উপর নিজের রথ নিয়েও বেরোয়নি। ছদ্মবেশে তাই  ট্রান্সপোর্ট বলে যা পাওয়া যায় তাই ব্যবহার  করতে হবে। তখনকার দিনে পাব্লিক ইউটিলিটী বলে বিশেষ কিছু ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস ছিল না তাই লোকেদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ব্রাহ্মণের বেশ ধরে যাত্রা শুরু হল।

বেশ কয়েক দিন বাদে তারা গিরিব্রজ শহরে এসে উপস্থিত হলেন। এই গিরিব্রজ শহরেই হচ্ছে জরাসন্ধের রাজধানী। পাশেই চৈত্যক পাহাড়, যেখানে জয়দ্রথ এক ষন্ডবেশী রাক্ষসকে মেরে তার  দেহাবশেষ দিয়ে তিনটি ভেরী বানিয়ে টানিয়ে রেখেছিলেন। অর্জুন আর ভীম তাদের আগমন জানানোর জন্য  চৈত্যক পাহাড়ের একটা শৃঙ্গ ভেঙ্গে দিলেন সাথে ঐ তিনটি ভেরীও ভেঙ্গে দেওয়া হল।

তার পর রাস্তায় এক মালাকারের দোকান থেকে মালা জবরদস্তি নিয়ে গলাতে ঝুলিয়ে রাজার দরবারে এসে উপস্থিত। জরাসন্ধ তখন পুজাতে বের হচ্ছিলেন। ব্রাহ্মণ বেশে এই তিনজনকে দেখে তাদের সাধারন ব্রাহ্মণ ভেবে বলেন- আসুন বসুন এই নিন কিছু ফলমূল। আর বলুন আপনারা কে বা কেন এসেছেন।

জরাসন্ধের খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল। এরা যে তিনজন  ছদ্মবেশী তা বুঝে ফেলে বললেন - মহাশয়েরা আপনারা তো ব্রাহ্মণ নন, কারণ আপনাদের দেহে যদিও ব্রাহ্মণদের মত মালা চন্দন ইত্যদি লেপন করা হয়েছে, তবুও আপনাদের দেহের ক্ষতের দাগ বলে দিচ্ছে যে আপনারা ব্রাহ্মণ হতে পারেন না।

তখম কৃষ্ণ বলেন, জরাসন্ধ তুমি ঠিক ধরেছ, আমরা ব্রাহ্মন নই, আমি যাদবকূলের কৃষ্ণ আর ইনি গান্ডীবধারী অর্জুন, আর ওপাশে আছেন বৃকোদর ভীম। তুমি বিভিন্ন রাজাদের আটক করে মহাদেবের সামনে বলি দেবে বলে মনস্থ করেছ তাই তোমাকে আমরা শাস্তি দেবার জন্য এসেছি। ভাল চাও তো ঐ রাজাদের সসন্মানে মুক্তি দাও আর তাদের রাজত্বও ফেরত দাও,।

জরাসন্ধ বলে,- ইম্পসিবল। আমি তাদের ধরে এনেছি রুদ্রদেবতার সামনে বলি দেব বলে, তারা বলি প্রদত্ত হবার জন্য মানত করা, এদের ছেড়ে দিলে আমি দেব কোপে পড়ব। কৃষ্ণ বলেন, তাহলে তোমাকে আমরা যুদ্ধে আহ্বান করছি। জরাসন্ধ বলে তাই হবে। কিন্তু আপনারা যুদ্ধ কি ভাবে করতে চান। কৃষ্ণ বলে তোমার যা ইচ্ছে। আমাদের  তিনজনের একত্রে, বা প্রত্যেকে একা বা তোমার পছন্দ মত কারুর সাথে। সব তুমি যে ভাবে চাও, কেননা তোমাকে তো আমরা মেরেই ফিরব।

জরাসন্ধের রাগ মাথায় উঠল। সে বলে দিল ঐ মোটাটার সাথেই আমি মল্লযুদ্ধ করব। তোরা তো সব ফড়িঙের মত। ভীম ক্ষেপে বলে -চলে আয়। ঠিক হল যে পরের দিন সকালে লড়াই শুরু হবে। কোন টাইম লিমিট নেই।
পরের দিন সকাল বেলায় মল্লভূমিতে রাজধানীর লোকেরা হাজির। সবাই ভাবছে মরল এবার কটা ব্রাহ্মণ, রাজামশাইর সাথে লড়াই। আইন মোতাবিক ডাক্তার বদ্যি ওষুধপত্র নিয়ে হাজির। কিন্তু যুচ্ছ চলতে চলতেই যা একটু উপচার সম্ভব তাই করতে হবে, যুদ্ধ থামবে না।

ঘন্টা বাজিয়ে স্তোত্র উচ্চারণ করে কার্তিক মাসের পয়লা তারিখে সকালে মল্লযুদ্ধ শুরু হল। কৃষ্ণ আর অর্জুন মাঠের ধারে বসে দেখছেন। রাত হল, আবার দিন, আবার রাত, লড়াই চলছে তো চলছেই। দেখতে দেখতে চোদ্দ দিন পেরিয়ে যাবার পরে জরাসন্ধ একটু ক্লান্ত দেখাচ্ছে দেখে  কৃষ্ণ বললেন-  হে বৃকোদর, ক্লান্ত শত্রুকে বিশেষ জোরে আঘাত করতে নেই, তুমি জরাসন্ধের দুপা ধরে ঘুরিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দাও। কিন্তু দেখালেন দু হাতে দুটো আলাদা পা ধরে একটু ফাঁক করে।

ভীম ইঙ্গিত বুঝলেন আর জরাসন্ধের দুটো পা ধরে টেনে তাঁকে দু আধখানা করে ছুড়ে ফেলে দিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যপার, আবার সেই দুটি টুকরো একসাথে হয়ে এসে লড়াই করতে লাগলো। এবার কৃষ্ণ একটা কাঠিকে লম্বালম্বী দু টুকরো করে ডান দিকের টুকরোটাকে বা দিকে আর বা হাতেরটাকে ডান দিকে ছুড়ে ফেললেন। সেই অনুযায়ী ভীম জরাসন্ধের সন্ধিবিচ্ছেদ করে দুটা টুকরো দুই আলাদা দিকে দুরে ফেলে দিলেন। আর বিচ্ছেদের পরে টুকরোরা তাদের নিজস্ব জায়গা না পেয়ে জোড়া লাগতে পারল না। জরাসন্ধ মারা গেল।

রাতেই গিয়ে  অর্জুনের পার্টী ঐ ছিয়াশিজন রাজাকে মুক্তি দিয়ে দিল। কিন্তু মগধে রাজা কে হবে, জরাসন্ধের ছেলে সহদেবকে সিংহাসনে বসিয়ে অর্জুন আর ভীম কৃষ্ণের সাথে যুধিষ্ঠিরের কাছে ফেরত এলেন। আর রাজসূয় যজ্ঞ করতে কোন বাধা রইল না।  বাকী রয়ে গেল শিশুপাল, জরাসন্ধের সেনাপতি। তার কথা পরে হবে। 



.


মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০১৪

দুটো লিমেরিক

ফেসবুকে সাবধান
কেন হবেন জেনে যান
অচেনা বন্ধু হলে
ভুলেও ফোন নম্বর পেলে
সারাদিন হতে হবে আপনাকে পরেশান।।

পুরনো দিনে ক্যামেরা কিনে
লুকিয়ে ছবি তুললেও লোকে যেত জেনে
আজকে নিজের মোবাইলে
বাজে সব ছবি তুলে
পাঠাচ্ছে লোকে খুঁজে গুনে চুনে।।