রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১২

মন্ত্রীর রাগ

একটা ভিডিও দিলাম কি রকম লাগল জানাবেন।


ইংরাজী অনুবাদ সাথে দিয়ে দিলাম

Last evening it was decided in the meeting
All ministers will say aye , else he should be condemned
But in the night I woke up at one-thirty dead
No power supply, and the invertor has also conked out
Got up from bed, removed the curtains
found that there is a black-out.
Then this must be to humiliate me
Since I opposed the proposal of raising the taxes
I said that such raise would result in loss of vote in coming election
But they said, "nothing doing, you also have to say aye
As you want to remain a minister
Whatever we said earlier, must have been forgotten by mass
We also must have forgot those.
Give the same slogan find out them in old speeches
But change the rhetoric".
I came out of the meeting
Avoiding the reporters
Decided that, I will see them in the Parliament
I will bring a no confidence motion
Even though the minimum number of supporters are falling short
But I know that though till now I was abusing the opposition
Now they will support my motion to defeat this government.

শনিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২

আজ জ্যোৎস্না রাতে

কবিগুরুর গানের থেকে লাইন নিয়ে তার উপর এই ছড়াটা বানিয়েছি.


The English translation is given herewith.

After listening this much brother commented
"Samiron is a good boy as far as I know
When from he has started drinking?
My reply was  this is not the Samiron
who is from Ghatal
This is not a person but only air.
Brother asked I cannot understand how air can be intoxicated
I havn't smelled any liquor
Was there any party last night at the forest near the river.
I heard some songs and dance music last night
Well since Mr. Doble (ACP from Mumbai) is on leave
Eat, sing, drink up to your satisfaction.
I had to tell him please stop
Do not talk on things you do not understand
Poet has said here that the air in the moonlit night of spring
And drinking in a pub
Are not the same though it seems so
And if you do not believe me go to the forest tonight
And you will be proved the same.
I definitely do not intend to override the writings and its meaning. Please excuse me if I have hurt anybody's feelings.


বাঙ্গালী এবং মাছ


মাছ আর বাঙ্গালী - এক থেকে আরেক কে আলাদা করা খুবই শক্ত। এ কথাটা যে সব বাঙ্গালী প্রবাসে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে ফেরেন, তাদের জন্যে বিশেষ করে প্রযোজ্য। কিন্তু আমার  ভয় হচ্ছে যে আমরা মাছ খেতে ভুলে যাব কিনা।

আজ থেকে আমরা যদি ৪০/৫০ বছর পিছিয়ে যাই তবে আমরা দেখব বাজারে বড় রুই, কাতলা, ইলিশের পাশে ছোট মাছ পুটি,বেলে, গুলে, মৌরলা। আনন্দী, বৈরাগী, আমোদী এই সব মাছ ভালভাবে জায়গা করে নিয়েছে আর বাঙ্গালির রসনাকে ভালভবেই তৃপ্ত করছে। বাড়ির কর্তাএই সব ছোট মাছ কিনে নিয়ে গিন্নীর কাছে ফেলে দিচ্ছেন আর তাঁরাও ভালকরে শত কাজের মধ্যেও মৌরলার টক, বৈরাগীর ঝাল, পুটির কালজিরে দিয়ে ঝোল রান্না করতে পিছপা হচ্ছেন না।

আজকের দিনে রান্না ঘরে কুকিং প্ল্যাটফর্মের উপর বটি দিয়ে মাছ কাটা সম্ভব নয়, আর হাটুর প্রব্লেমের জন্য নীচে মাটিতে বসে মাছ কাটাও বাতিলের পর্যায়ের মধ্যের পরে যাচ্ছে। এর উপর আছে ছাইএর সমস্যা। আজকে রান্না হয় গ্যাসে নয়ত মাইক্রো ওভেনে। কাজেই মাছ ধরার জন্য ছাই নাই। কোথা পাই ছাই? যে সব বাড়ীতে কর্তারা এই সব মাছের ভক্ত, সেখানে হয়ত নারকেলের ছোবড়া পুরিয়ে ছাই তৈরী করে প্যাকেটে রাখা থাকে। তাছাড়া এ কাজের জন্য বটি অতি প্রয়োজনীয় অস্ত্র। কাটিং বোর্ডের উপর ছুরি দিয়ে আর যাই হোক, সেফ মাছ কাটতে পারলেও, সাধারণ বাঙ্গালী ঘরের মেয়েরা এটা তাদের সাধ্যের বাইরে বলে মনে করবেন। কাজেই ছোট মাছ খেতে গেলে এখন বাজারের মেছুনী মাসিই ভরসা। তাঁরাও আজকাল সময়এর অভাব দেখিয়ে এ কাজে উৎসাহী থাকছেন না। অতএব আপনি চান বা না চান বড় মাছই আপনার ভরসা। সেটা আর কাঁহাতক খাওয়া যেতে পারে। এর পরে আরও একটা বিপদ আছে। অধিকাংশ বাড়ীতে সময় বাচাতে মাইক্রোওভেন ব্যবহার হচ্ছে। এতে মাছ রান্না করলে তার পরে চেম্বার থেকে মাছের গন্ধ দূর করতে বেশ বেগ পেতে হবে।

তাই উপায়? কাচা মাছের গায়ে নুন ঘসে মিউকাসটা সরিয়ে নেওয়া বা চাকুর ধার দিয়ে ঘসে আশ কিছুটা তুলে দেওয়া। আর তার পর টম্যাটো পিউরী বা সসে তাকে সেদ্ধ করে নিয়ে খাওয়া। কাচা অবস্থাতেও খাওয়া যায়। প্রথম প্রথম একটু গন্ধ লাগলেও সেটা সহ্য হয়ে যেতে বেশি সময় লাগে না। সময়, গ্যাস বা বিজলী বাচে। বাড়ীর কর্তা খেয়ে তৃপ্ত হবেন।

শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১২

মিলান্তি ছড়া


এই কবিতাটা আর অনুবাদ করে দিলাম না। ভাল লাগলে জানাবেন।

প্রেমের পাঠশালা


আমি যখন প্রেমের পাঠশালার ক্লাস ওয়ানে পড়ি, তখন আমার অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। কলেজে যাবার পথে তোমাকে বাসে উঠতে দেখলে দৌড়ে গিয়ে সেই বাসটাতে উঠে পড়তাম। কন্ডাক্টার এসে টিকিট চাইলে একটা দশ টাকার নোট বাড়িয়ে দিয়ে মাথাটা নেড়ে বুঝিয়ে দিতাম যে শেষ টার্মিনাস পর্যন্ত টিকিট দিতে। কেননা জানি না তুমি কোথায় নামবে। আর যেই দেখতাম তুমি নামছ অমনি লোকেদের কনুইএর গুঁতো মেরে নেমে গিয়েছি আর তোমার পেছনে দূর থেকে অনুসরণ করেছি। তোমার স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখে রজনীকান্তের স্টাইলে সিগারেটটা  টুস্কি মেরে ফেলে দিয়েছি। সব সময় নজর থাকতো আমার দিকে তুমি তাকিয়েছ কিনা। যদি দেখতাম তোমার নজর আর কারও দিকে পড়েছে, অমনি মনে হত তাকে চিবিয়ে খাই। রোগা পটকা চেহারাতে সেটা সম্ভব নয় তাই রাত শুয়ে চিন্তা করতাম সেই লোকটার কি ভাবে মৃত্যু হবে। আর যদি দেখতাম তুমি আমার দিকে তাকিয়েছ তবে চিন্তা শুরু হয়ে যেত আবার কাল তুমি তাকাবে কিনা।
এ ক্লাস থেকে প্রোমোশন পাবার পরে তোমার জন্যে কোচিঙের ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে নোটস জোগাড় করে তোমাকে সাপ্লাই করা, পুজা প্যান্ডেলে তোমাকে অন্য কারুর ধাক্কা থেকে বাচানো, অবশ্যি তোমাকে জানতে না দিয়ে। আর কখনোবা উপরের ক্লাসের ছাত্রদের মতন তোমার সাথে পার্কে বসে বাদাম ভাজা খাওয়া। এ কাজটা আমাকে লুকিয়ে করতে হত কেননা আমার পাঠশালাতে এর পারমিশন প্রোমোশন পাবার পরে পাওয়া যেত।
যত প্রোমোশন পেয়েছি তত কঠিন কঠিন কাজ করতে হয়েছে। তোমার সাথে তোমার বান্ধবীদের ফুচকা খাওয়ান, ময়দানে তোমার হাত ধরে সন্ধ্যের পরে দূরের গাড়ির আলোয় হাঁটা, অন্ধকার সিনেমা হলে হাতে হাত দিয়ে বসে সিনেমা দেখা এই ধরণের সব।
সামনে আমার ফাইনাল পরীক্ষা। ভীষণ টেনশন হচ্ছে। পাস করতে পারলে তুমি আমার হবে। তোমাদের বাড়ীতে প্যান্ডেল বাঁধা হবে। আমি যাব আর তোমাকে নিয়ে আসব। আর ফেল করলে? তখনও প্যান্ডেল বাঁধা হবে। আমি যাব শুধু পরিবেশন করতে। তুমি অন্য কারুর সাথে গাড়িতে চেপে চলে যাবে। আমি হব দেবদাস, শুধু হাহুতাশ আর দীর্ঘশ্বাস। সবাইকে অবিশ্বাস।
তার পর? আর তো কিছু নেই। ফেল করা ছাত্রদের আর তো রিঅ্যাডমিশন হয় না। তোমরা কি কেউ আমাকে টিউশন দেবে?

 

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

আঙ্গুর ফল টক

আজকের দিনে বাংলার অবস্থার উপর আমার এই ছোট্ট কবিতাটা যদি আপনাদের আনন্দ দেয় তবে ভাল লাগবে।  ভিডিওটা দিলাম।


ইংরাজী অনুবাদ করে দিচ্ছি যাতে যারা বাংলা স্ক্রিপ্ট পড়তে পারেন না তাঁরাও আনন্দ পান

Shouting about  Angur, I  got sore throat
I did not know that it was so sour
I would have raised a castle with marble and cement
Alas, it has now costs well beyond my reach
Do not bother, I will now construct it with mud
My associates are leaving me one by one
It does not deter me to go ahead
But those who are still with me had to be well fed to keep them satisfied
Does not matter even if my store is empty
I will take loan and feed them
Those who get them fed on these loans had to repay the amount by themselves, but
I am beyond this calculation.
Since every law had some loopholes
through which some like me escapes
But the thieves and poor had to stay in the lockup
But I will relax in my A.C room. 

সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২

আবির্ভাবের জন্মদিন উপ[লক্ষে


বস এবং ঘোড়া কে ভাল?

There is a bengali proverb that never to go in front of your boss or behind a horse as you are likely to get hit. This proverb has been converted in a bengali poem with audio input. A so called translation of the poem is also given below. Enjoy it and send comments.

It is said that never go in front of your boss or behind a horse
But I want to know why it is said so
Well if I do not go in front of boss I can backbite him
Or avoid his dirty look about my dress
But i fear with those big teeth
The horse might bite me if not kick me
The boss may behave little erratic seeing you
But will give you a  lift in his AC car
I may get lot of presentation
While the horse may at best could take you on its back
So I would prefer to go in front of boss
Since he is love-able everywhere
I do not want to go near a horse 
As it is only love-able at the racetrack.

মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১২

কবিতা কাকে বলে


কবিতা কাকে বলে? কবি + তা = কবিতা। মানে কবি যা সৃষ্টি করেন তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে নেওয়াটা, যেটা হাস মুরগীর ডিমের উপর তা দেবার সমান বলে মানা যেতে পারে সেটাই কবিতা। ঠাট্টা বলে মনে হলেও এটা কিন্তু একেবারে ঠিক। হাঁস মূর্গী যেমন ডিম পাড়ার পরে জানে না যে সেই ডিমে বাচ্চা হবে না হাফবয়েল কি অমলেট হবে, তেমনি কবিও জানেন না যে তার লেখা গান হিসাবে গাওয়া হবে না কেউ মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে যেখানে সেখানে দাড়ি কমা লাগিয়ে আবৃত্তি হিসাবে শোনাবেন বা সেটা স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে সামিল হবে।  আজকে sms এর যুগে আর বড় বড় মহাকাব্য লেখা হয় নাঅনু কবিতা বা হাইকু নিদেন পক্ষে চোদ্দ লাইনের সনেট। এর চেয়ে বড় লিখলে আর কেউ পরবে না। সেটা ডাইনসরের ডিমের মতন ফসিল হয়ে থাকবে।

এবার দেখি কবি কারা? যিনি কবিতা লেখেন তিনিই কবি। আমি আপনি কবিতা লিখলে আমরাও কবি পদবাচ্য হয়ে যাব। কিন্তু কবিদের একটা চেহারা আমরা মনে মনে একে নিতে পারি। রবি ঠাকুরের মত লম্বা ঝোলা আলখাল্লা, লম্বা দাড়ি আজকালে আর নেই।  আগেও আমরা সত্যেন দত্ত, করুনানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় বা কাজী নজরুল এদেরকেও আমরা এই চেহারাতে সাজাতে পারিনা। বরং আজকের দিনে কবির কাধে একটা শান্তিনিকেতনী ঝোলা, মাথায় উসকো খুসকো চুল, চোখে  চশমা অবশ্যি কম্পালসরী নয়, থাকতে হবে। বিপ্লবী কবিদের হাতে একটা বিয়ারের গ্লাস থাকতে হবেআজকাল লোকে সিগারেট খাওয়া পছন্দ করে না তাই এরা স্মোকার হবেন না।  তবে মুড আনতে নেভানো পাইপের ডাঁটিটা চিবিয়ে পোড়া তামাকের গন্ধটা পছন্দ করবেন।
এবার দেখি কবিতা কারা ভালবাসে? এবং তার প্রয়োগ কোথায়? বিপ্লবী কবিতার স্লোগানে খুব ভাল উপযোগ হতে পারে। যেমন -পুলিশ তুমি যতই মারো। মাইনে তোমার একশো বারোপ্রেম পত্রে কবিতা লেখা বা টুকলি করা একটা স্টাইল কোষন্ট বলে মানা হচ্ছে। তা সেটা গোলাপের সাথে জোলাপ হলেও চলবে। আবার –“আমি তোর সেভেন আপ, তুই আমার মিরান্ডা”, এই ধরনের কবিতা লিখতে পারলে তো মার দিয়া কেল্লা। এই সব কবিতাতে বিদেশী গানের সুর ফিট করা সহজ।  আমি ভাবছি এবার লিখব  “তু রু রু রু, এইত আমার প্রেমের শুরু, কি করব বলনা গুরু”আমি নিশ্চিত জানি যে যদি কোন প্রোডুসারকে দিয়ে এটাকে আগামী ছবির হিরোর মুখে গাওয়ানো যায় তবে এটা বছরের শ্রেষ্ট গান হিসাব সানন্দা পুরস্কারের একমাত্র যোগ্য গান হবে। খালি এর জন্য আমাকে একটু পালিশ, মালিশ বা বালিশ দিতে হবে। যাকগে সেটা এমন কিছু নয়।
এতক্ষন কবিতার উপর আমার গরু খোজা (গো + এষনা = গবেষনা) লিপিবদ্ধ করলাম। মোদ্দা কথা পাওয়া গেল যে কবি আপনি ও হতে পারেন আর কবিতা লেখা এমন কিছু একটা শক্ত কাজ নয়। অতএব লেগে পড়ুন। একটা কিছু লিখুন, একটু পালিশ, বালিশ, মালিশের জোগাড় রাখুন। তাই বলি “এখন আর দেরী নয়, ধরগো তোরা, হাতে কলম ধরগো, এখন খাতা ভরে লিখে লিখে, পাতা গুলো ভরগো”।

হাতি আর ব্যাঙের মধ্যে কথা

DIALOGUE BETWEEN MIGHTY ELEPHANT AND GROUP OF FROGS

There is a fable indicating even a mighty elephant have to get insulted when it falls in crisis. Below is an audio version of the same story  rendered in poem by me. The language is bangla. English translation is given also below.

When the elephant fell in the mud
Frogs jumping with joy kicked him and asked
What made him to slip in frog’s territory with such a thud
Increasing own beauty with application of mud
Let his consort appreciate when she arrives
Who had been asked to rush in by drive
The elephant said I’m sorry
Bellyful of mahua made me merry
Could not keep balance due to intoxication
Don’t call my wife as I know what will be her reaction
So pull my tusk and start your chorus whole night
Will enable me to stand upright
If I can stand up ever
May announce will drink never.  


সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১২

শৃগাল এবং কূমীরের কথোপকথন

পুরনো কথামালায় শেয়াল আর কুমীরের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয়েছিল। সেটাকেই একটু ছড়ার মাধ্যমে লিখে দিলাম।
পদ্মা নদীর চরে, শুয়েছিল হাঁ করে, কিছু কুমীরের ভীড়,
এর থেকে কিছু দূরে, পা গুলো মুড়ে, শুয়েছিল একটা কুমীর।
শিয়াল ওপাড়ে যাবে, কিন্তু খালি ভাবে, কেন ওটা হয়ে আছে স্থির
নাকি সত্যি চুপ করে আছে, বেটা ধুর্ত কুমীর।
এই ভাবি উচ্চস্বরে, জিজ্ঞাসে কুমীর প্রবরে, ভাই তুমি কি জীবিত
কেননা জানি আমি মরিলে পরে তোমার লেজটাতো নড়িত।
শুনিয়া কুমীর ভাবে, এ কথা জানিনিতো আগে
শিয়ালের প্রচূর পঠন, এ নিশ্চিত সত্য কথন
লেজটা নাড়াই তবে, ও যেন সত্যি ভাবে, হয়েছে আমার মরণ।
লেজটা নড়চে দেখে, শিয়াল পালায় বেগে
শুনে আমার কথা, চেষ্টা তুমি করছ বৃথা
কি বোকা কুমীর ভাই, লেজটা নাড়ালে তাই,
আমায় কি এত বোকা ভাব, যে তোমার কাছে আমি যাব।

রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১২

লেখাপড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে

লেখাপড়া করে যে গাড়ী ঘোড়া চড়ে সে – এই বিখ্যাত বাক্যটাকে আমরা ছোটবেলায় বানিয়ে ছিলাম - লেখা পড়া করে যে গাড়ী চাপা পড়ে সে। আমাদের এই বাক্যটাকে বদলানোর সপক্ষে যুক্তিও আমরা রেখেছিলাম। লেখাপড়া করতে গেলে রাত জেগে পড়তে হবে। অতএব দৃষ্টি শক্তি কম হয়ে যাবে এবং দূরের গাড়ী না দেখতে পেয়ে চাপা পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশী থাকবে। কিন্তু সত্যিই কি লেখাপড়া করলেই গাড়ী ঘোড়া চড়তে পারা যাবে? আমার তো মনে হয় এটা ঠিক নয়। প্রথমত বিল গেটস এর মতন লোকের বেশীদূর পড়া হয়নি কিন্তু তার তো গাড়ীর সংখ্যা কম নয়। আর সব সময় গাড়ী চড়বার মতন লোক হচ্ছে গাড়ীর ড্রাইভার। যতদূর জানি তাদের কাজের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব একটা বেশী নয়। আর যে যেহেতু তারা রাত জেগে পড়েন নি তাই তাদের চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি খারাপ হয়নি
 এবার দেখি ঘোড়া চড়ার সম্ভাবনা। ছোটবেলায় গড়ের মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে ঘোড়ার উপর বসা পুলিশের তাড়া খাওয়ার সময় ঘোড়া চড়বার যোগ্যতা হিসাবে পুলিশে ভর্তি হবার কথা মনে হয়েছে। তখনকার দিনে সে জন্য কলেজে গিয়ে ডিগ্রী নেবার দরকার পরত না। এছাড়া রেসের মাঠের জকিদের জন্য যতদূর জানি কোন নূন্যতম শিক্ষন যোগ্যতার কথা ছিলনা। আর রাজা মহারাজাদের কথা আলাদা। আমার মত ছাপোষা মানুষের কাছে ঘোড়া পুষবার মত রেস্ত কোথায়। কাজেই দেখতে পাচ্ছি যে কথাটার কোন বিশেষ তাতপর্য নেই।
 তাই সবাই মিলে আওয়াজ তুলুন পাঠ্যপুস্তক থেকে এই ধরনের বাক্যকে বাদ দিতে হবে। আমি অবশ্যি আপনাদের সবার পেছনে থাকব কেননা পালানর দরকার পরলে যঃ পলায়তি সঃ জিবতি।

বাংলা ছড়া বা কবিতা

কবি মানে বাঙ্গালী, না বাঙ্গালী মানে কবি
এ নিয়ে ছিল সংশয়, এখন দেখছি সেটা অমূলক ভয়।
কবিতার শেষে যদি লেখ রাজা
মিলিয়ে লিখে দাও তাজা, ভাজা, খোজা
যদি তুমি লেখ শেষ কালে রবি
মিলিয়ে দিতে পার ছবি, হবি, বেবী
যদি লাইনের শেষে দাও ছোট্টকথা বধূ,
মেলাতে পাবে তুমি মরুভূমি ধূ ধূ
লিখলে ফাগুন, মিলবে আগুন,
যদি লেখ গুন্ডা, মিলবে ডান্ডা
যদি লেখ ডাকাত, শুয়ে চিৎপাত
আমি যে ভাই লাইনের শেষে সিংহ দিতে চাই,
কিন্তু সিংহের সাথে যে কারুর মিল নাই।
গিন্নী বলেন তোমরা সব নারী বিদ্বেষী
সিংহী লিখলে পরে, মিল পাবে অনেক বেশী
কথা শুনে লিখে দিলাম শেষকালে সিংহী,
বললেন প্রিয়া মোর, মেলাও লিখে ভৃঙ্গী।

ভিডিও ফাইল তৈরী করতে অসুবিধা হচ্ছে তাই শুধু লেখাটাই দিলাম। পরে আওয়াজটা জুড়ে দেবার ইচ্ছে রাখি।
 

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

পুরন দিনের কথা

আম্মু আগুনের মধ্যে কাঠটাকে ভাল করে গুজে দিয়ে আবার এসে শুয়ে পড়ল। শীতটা বেশ ভাল করেই জাকিয়ে পড়েছে। আর জানয়ারগুলো আগুনের তেজ কমে গেলেই কাছে এসে হামলা করতে চায়। আগুনের শিখার উপর দিয়ে তাদের চোখগুলো যে জলছে তা বেশ ভাল বোঝা যায়। এখন আগুনটা উস্কে দেবার পরে আর জানোয়ার গুলো রাতে আসতে সাহস করবে না। সকাল পর্যন্ত চলে যাবে। ওদিকে ইন্দ্র তার ভালুকের ছালটাকে ভাল করে জড়িয়ে নিয়ে নাক দিয়ে আওয়াজ বার করছে। সন্ধে হবার আগে বুনো শুয়োরটার মাংস ঝলসে নিয়ে খাওয়া হয়েছে। কিছুটা কালকের জন্য পড়ে আছে। এখন আর ক্ষিদে নেই, দরকার শুধু ঘুমের আর উত্তাপের। ইন্দ্রর কাছে সে উত্তাপ পাওয়া যাবে না। আম্মু একটু আগুনের দিকে বেশী এগিয়ে এসে শুল। রাত আসতে আসতে  শেষ হয়ে আসে।  এভাবেই ওদের দিন কাটে। যতদিন ধারে কাছে মাংসওয়ালা জানোয়ার পাওয়া যাবে ততদিন ওরা এই গুহাতেই থাকবে। সন্তান সন্ততি হবে  আবার যখন জায়গাতে কম পড়বে তখন অন্য জায়গার খোঁজে রওয়ানা হবে।

আসুর একটা ফলের ছাল ছাড়িয়ে নিয়ে চুষছিল। বাইরের খোসাটা তেতো লেগেছে তাই ফেলে দিয়েছে। কিন্তু ভেতরটা বেশ মিষ্টি। আসুরের রোমশ হাতের কনুই পর্যন্ত ফলের রস গড়িয়ে পড়ছিল কিন্তু ফলটাকে সে খুব আরাম করেই খাচ্ছিল। বিকেল বেলায় যখন পাহাড়ে উঠে আসছিল তখন একটা গাছের নীচে ফল গুলো পড়ে থাকতে দেখে দুটো নিয়ে এসেছিল। আগে দেখেছে জানোয়ারে এই ফলটাকে খাচ্ছে তাই জেনেছিল যে ফলটা বিষাক্ত নয়। তস্করী দূর থেকে দেখে এসে ছোঁ মেরে একটা নিয়ে আসুরের মতন করে চুষতে শুরু করে দিল। ভাষাহীন সমাজে আওয়াজ করেই তস্করী বুঝিয়ে দিল তার খুব ভাল লেগেছে এবং আরো চাই। ফলটা খাবার পরে দেখল যে ভেতরে একটা শক্ত কি আছে যাতে কোন রস নেই দুজনেই সেগুলো ছুড়ে পাহাড়ের নীচের দিকে ফেলে দিল, আর  ঐ রস মাখা হাতে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে গুহার দিকে এগিয়ে গেলদিন শেষ হয়ে এল।

বরুন তার দলের ছেলেদের নিয়ে মাঠে শিকার করতে গিয়ে একটা নেকড়ের মতন ছোট জানোয়ারকে দেখতে পেল। সেটা তাদের দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল না কিম্বা তেড়ে এসে আক্রমণ করল না। হাতের কাছে একটুকরো হাড়ের সাথে মাংস ছিল তাই ছুড়ে মারতে বরং সেটাকে কামড়ে নিয়ে খাবার চেষ্টা করতে লাগলো। তার পরে আরও কিছু পাবার অপেক্ষায় থাকল। পরপর কদিন এই রকম দেখার পরে বরুন বুঝতে পারল জানয়ারটা তার কাছে খাবার পাচ্ছে বলে তার অনুগত হয়ে পড়েছে। এখন বরুন শিকারে বেরলে পড়ে সেই জানোয়ারটাও সাথে যায় আর তাড়া খাওয়া জানোয়ারের পালানোর পথ আটকায়। শিকারে খুব সুবিধা হতে লাগলো।

ইতিমধ্যে আম্মু আর ইন্দ্র মারা গেছে। তাদের প্রজন্ম ক্রমশ বেড়েছে। শিকার করে আর আজকাল সবার খাবার জোটে না। আর তাড়া খাওয়া জন্তু গুলোও আক্রমন করলে কেউ না কেউ আঘাতও পায়। সেই ঘায়েল হওয়া সাথীর আর্ত চিৎকার রাতের ঘুমে ব্যঘাত ঘটায়। এই সময়ই আম্মুর প্রজন্মের নজরে পরে মাঠের এক ধরনের দিকে যাতে দানা হয়েছে। কিছু জন্তুও সেই ঘাসগুলো খেতে আসছে। ওরা জন্তু গুলোর মতন সেই দানাগুলোকে খেতে গিয়ে কোন মজাই পেলনা। দলের একজন আগুনের ধারে বসে ঐ দানাওয়ালা ঘাস নিয়ে আগুনের মধ্যে খেলা করছিল। সেই আধপোড়া দানাগুলো মুখে দিয়ে দেখল তার আস্বাদ অনেক ভাল শুরু হল তাদের ঐ ধরনের ঘাসের খোঁজ। খোঁজ করতে গিয়ে দেখল যে দানাগুলো মাটিতে পড়ে যাচ্ছে, পাখীতে খেয়ে নিচ্ছে আর ঘাসের উপর যখন থাকছে তখন জন্তু জানোয়ারেরা সেই ঘাস গুলো খেয়ে যাচ্ছে। দলের ছেলেদের উপর আদেশ হল যেখানে ঐ ঘাস আছে তার কাছেই কোন গাছের উপর তাদের আস্তানা নিতে। অখান থেকে পাখী বা জন্তুদের তাড়িয়ে দিতে সুবিধা হবে,

 কলেজে পড়ার সময় বনফুলের স্থাবর আর জঙ্গম উপন্যাস দুটি পড়ে খুব ভাল লেগেছিল।তারই এই অক্ষম অনুকরন আপনাদের কি রকম লাগবে জানি না, তবে ছোটবেলায় শুনেছি কচুগাছ কাটতে কাটতে মানুষ কাটায় হাত পাকে। তাই এই প্রচেষ্টা।

রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১২

what is madness পাগলাম কাকে বলে

আমি পাগলামি আর সাদা কালো টাকার উপর একটা ছোট কবিতা লিখেছি। তার ভিডিও নীচে দিলাম সাথে তার ইংরাজী অনুবাদ (আমার অপটু হাতে) লিখে দিলাম জানিনা কিরকম লাগবে

WHAT IS KNOWN AS MADNESS?
I do not dream, it is forbidden for me.
Why, well let me tell you
The market is depressed throughout the world
Making everyone to search for a new job to meet his requirements
Retrenchment taking place everywhere, none will be spared
But, if it's wrong if I am retrenched,
I do not understand the words Outsourcing, In-house etc.
Keep them with you in your dictionary
I only want to know when my salary will be paid
Or like kingfisher will not be paid
Well. I do not have a bank balance to sustain me
And why should I work without any remuneration
You might have saved a packet earlier
This makes up your needs.
Why should I dream that my payment will be tomorrow
As depressed market does not get revived overnight,
You may dream, that the market will be revived shortly
People like you says it is better to have depression
Which makes black money white.
You jump with joy when remunerations are paid in one lot
To make you to carry a sack to bring the notes to home.
And then that money will be all white and not tainted black.
The only difference we have between us,
Though having same citizenship
You have some black money to spend or save
But I have neither white nor black money
It makes me carefree to dance and sing merrily
Even after losing my last penny.
Do you call this is madness? Can you define a mad man?
I know that speaking loudly about black and white money
is not called MADNESS.


 I require your comments, which will encourage me to write more. practises makes a man perfect so don't allow me to loose heart.


শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১২

যা আমি চেয়েছিলাম


আজকে একটা বাংলা কবিতা ভিডিও করে নীচে দিলাম সাথে ইংরাজীতেও
The translation of the bangla poem in audio view is as under. 


"a skinny tiny person i am
but wanted to slam great Khali in a bout
i limp
still wanted to win over Bikila in marathon
i somehow get through in exams
still i desired to get a gold medal
i live day in and day out
but wanted to build another Taj 
as you were by my side then 
and i believed those dreams are within my reach
waiting to be grasped 
now i am alone. all alone
you have left me 
and do not want to dream 
only i want to know
is there anyone with you today
who dreams like me
as i know that
only you can make on to dream."



I might have done mistakes but always require your inputs.




শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

জলখাবারে কি খাব?



ছোটবেলায় বাড়ীতে দেশের বাড়ী থেকে ঠাকুর্দা আসতেন। তখন আমরা খুবই ছোট। মাকে দেখতাম এত্তবড় ঘোমটা টেনে দাদুর জলখাবার নিয়ে আসত। তার পর জল ছিটিয়ে আঁচল দিয়ে খাবার জায়গাটা মুছে দিয়ে তার পরে থালা রাখত। থালায় সাদা সাদা ফুলকো লুচি, আর একটা বড় বাটীতে দুধ। দেশের বাড়ীতে গরু ছিল, কলকাতায় গরু নেই, গয়লা এসে দুধ দিয়ে যায়। সেটাতে তখনকার দিনেও ২৫-৩০ ভাগ জল মেশান থাকত। তাই তাকে ফুটিয়ে ফুটিয়ে প্রায় রাবড়ির অবস্থায় নিয়ে আসা হত। সাথে আলু ভাজা।  কোন সময়ই একটা লুচিতে সাদা থেকে লাল ভাব দেখিনি। সেটা ভাজা হত ভাদুয়া ঘিতে। ঘি গাওয়া আর ভঁয়সা মানে গরুর দুধ আর মোষের দুধ থেকে তৈরী ঘি। ভাদুয়া ঘি ছিল ভঁয়সা ঘিউত্তর প্রদেশের ভাদুয়া থেকে তৈরী হয়ে আসত তাই তার নাম ছিল ভাদুয়া। দোকানে ১৫ সেরের টিনে করে থাকত।

বাবাকে দেখেছি স্কুলের ছুটির দিনে লুচি দিয়ে জলখাবার খেতে। ঐ সময় একটা আরও ব্যপার ছিল। বাড়ীতে একটা বেড়ালছানা ছিল, সেটা এসে বাবার থালার পাশে বসত আর বাবা তাকে লুচির ফোলা ভাগের থেকে পাতলা চাদরের মত অংশটা ছিড়ে দিতেন আর বেরালটা সেটা খেত। তখন লুচি ছিল সাদা ময়দার তৈরী। আটার তৈরী লুচিকে পুরী বলা হত এবং সেটা সাধারনত অবাঙ্গালী মিষ্টির দোকানেই পাওয়া যেত। সাথে হয় কুমড়োর ঘ্যাঁট নয় ঘন ছোলার ডাল।

আটা দিয়ে আমরা লুচি বানান শুরু করলাম যখন ময়দাতে ভেজাল দিয়ে তার অবস্থা এমন করা হল যে তাকে বেলতে গেলে রাবারের মতন এদিকে টানলে ওদিকে ছোট হয় নয়ত বেলনির চাপটা তুলে নিলেই সে আবার নিজের অবস্থায় ফিরে যেত।

বাড়ির মেয়েদের  ময়দা মাখার সময় বিশেষ ধ্যান দিতে হত যাতে শক্ত না হয় বা ময়ান বেশী হয়ে নিমকি না হয়। ক্লোরেস্টরল বেড়ে যাবে বলে আজ ঘিএর বদলে সয়া রিফাইনে লুচি ভাজা হচ্ছে। কিন্তু সেই ঘিএ ভাজা লুচির স্বাদ আর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না। আর ভাজাটাও হচ্ছে কালে ভদ্রে।

আজকে আমাদের ব্রেকফাস্ট বলতে সাধারনত রুটি সাথে  কম তেলে তৈরী তরকারী। যতদূর সম্ভব আলু বা কুমড়ো না দিয়ে (সুগারের কথা চিন্তা করে)। রুটিটা মাল্টিগ্রেন আটার হতে হবে। ময়দাতে কার্বহাইড্রেট বেশী আর ফাইবার কম বলে তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।  ময়দার তৈরী ঘিয়ে ভাজা লুচি আজকাল ঠাকুরের ভোগেই দেওয়া হয়। (ঠাকুরের হজম শক্তি জোরদার)। এমনকি জামাই ষষ্ঠীতে জামাইকেও এটা দেওয়া হবে না (মেয়ে তার স্বামীর জন্য মাকে আউটরাইট নাকচ করে দেবে)"ওটা ওর সহ্য হয় না দিও না।"তিমধ্যে যদি কিছুটা তৈরী হয়ে গিয়ে থাকে তবে সেটা মেয়ের জলখাবারে যাবে।

আগে জলখাবারে মিষ্টি থাকতোই। রসগোল্লা, নয়ত সন্দেশ কিছু না হলে ঘরে তৈরী নারকেল দিয়ে তৈরী নাড়ু বা ছাপা। বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান হলে সরু চিড়ে, মোটা চিড়ে, গঙ্গাজল ইত্যাদি। এই তিনটেই কিন্তু মিষ্টির নাম। সুগারের দোহাই দিয়ে আমরা এই মিষ্টি জিনিষটার চল প্রায় তুলে দিচ্ছি। আর মিষ্টি ঘরে তৈরী করার মত সময়ও কার কাছে আছে?


দুধ বলে আমরা আজ যেটা পাই সেটা মিল্ক পাউডার গোলা জল। আসল গরুর দুধ কোথায়? মাখনের বদলে বাটার অয়েল মেশান হয়। কাজে ঘি তোলার জন্য যদি সর  জমানো হয় তবে সেটা ঐ বাটার অয়েলের ঘি হবে। আসল নয়। কাজেই তাতে কোন গন্ধ থাকে না।

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১২

হঠাত কি কোন কিছু হয়?


আমরা আজকাল কি কোন কিছু হঠাত করে করতে পারি? শ্যামবাবু আমাকে রাস্তায় দেখা হওয়াতে জিজ্ঞেস করলেন 'হঠাত আপনি আজকে বাজারে?' আমার বাজারে যাওয়াটা যদিও রোজকার ব্যপার নয় তবুও সেটা হঠাত বলে কেন গোনা হবে?  আমরা কি কোন কিছু হঠাত করি বা করতে পারি?

ছেলের জন্মের আগে থাকতে ছেলের স্কুলে ভর্তি হবার দরখাস্ত দিতে হয়েছে। কার্যত তার জন্মসময়টাও হিসেব করে ঠিক করা হয়েছে যাতে শুভলগ্নে সে জন্ম নেয়মার প্রসব ব্যথা না ওঠাতে তাকে অপারেশন করে ভূমিষ্ঠ করান হয়। এর জন্য প্রচুর হিসেব অঙ্ক করে সময়টা ঠিক করা হয়েছিল। বাস্তু, ফেং শুই, তন্ত্র ইত্যাদি ইত্যাদি। জন্মের পাঁচ বছর পরে তিনি ক্লাস ওয়ানে যাতে যেতে পারেন, মানে নার্সারীর আগে তিনি দু বছর পূর্ণ করে নিতে পারে সেই দিকটাও খেয়াল রাখতে হয়েছে।  পরে জন্ম নিলে তাকে ভর্তি হবার জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হত আর আগে জন্ম নিলে প্রবেশিকা পরীক্ষাতে সে এক বছর বুড়ো হয়ে থাকত

এখন অবশ্যি ক্লাস পরীক্ষাতে পাশ ফেল উঠে গেছে।, নয়ত পরীক্ষাতে কোন কোন চ্যাপটার আসতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য আগে থাকতে হিসাব করা দরকার পড়ত। এই অংশটা পর পর দু বছর এসেছে এবার আসবে না তাই বাদ, এটা বেশ কিছুদিন দেয়নি, তাই আসবে। এবং এটা রেসের মাঠে ঘোড়ার ফোরকাষ্ট করার চেয়ে বেশী এক্যুরেট (নিশ্চিত) ছিল। কাজেই কোন প্রশ্ন হঠাত আসতে পারত না।

খেলাধুলাতে বিশারদদের আগামী প্রত্যেক বছর কবে কোথায় থাকবেন সেটা ডোপিং কাউন্সিলে জানাতে হবে যাতে তারা প্রয়োজনে বাসর ঘর থেকে তুলে নিয়ে ডোপ টেষ্ট করাতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা হাসপাতালে প্রসবকালীন সময়েও হতে পারে।

বাপ ঠাকুর্দাদের চার মাসের নোটিশ দিয়ে মরতে হবে যাতে আত্মীয়স্বজন আগাম ট্রেনের রিজার্ভ টিকেট কাটতে পারে তাছাড়া ট্রেনের টিকিট কাটার আগে রেলের ইউনিয়নদের প্ল্যান প্রোগ্রাম জানার দরকার কারন ঐ সময় কর্মচারীরদের ধর্মঘট বা অমুক ঠিকাদারকে কেন ঠিকা দেওয়া হবে তা নিয়ে রেল অবরোধ কর্মসূচী থাকবে না এটাও নিশ্চিত হতে হবে। এটা একটু কষ্ট সাধ্য ব্যপার কেননা তারা সাধারনত এগুলো করার আগে ঠিক না করে, পরে ঠিক করে নেন যে কতদিন চলবে (পাহাড় বা জঙ্গলমহল বন্ধের কথা আলাদা। ঐ সব জায়গাতে কবে থেকে, কতদিন ধরে এসব কাগজে ছেপে  করা হয়)।

মাসে মাসে ছেলে মেয়ের স্কুল কলেজের মাইনের জন্য তারা জন্ম নেওয়ার আগে থাকতে টাকা জমাতে হবে এবং হিসেব করতে হবে আগামী প্রত্যেক বছর ইনফ্লেশনের দর কত থাকবে এবং বাচ্চারা যখন বড় হবে তখন তাদের পড়ার খরচ কত করে হবে।

অ্যাকসিডেন্ট কথাটার অর্থ হঠাত দুর্ঘটনা। এটার মানে আজ পালটে গেছে কেননা  আমি নিশ্চয়ই কোন কাজে ওখানে গিয়েছি আর দুর্ঘটনার কার্যকারনও তার নিজের দরকারে ওখানে গিয়েছে, এবং তাহলে সেটা হঠাত কোন ঘটনা নয়।

লোকে বলে বাঘে খাওয়া বা সাপে কাটা কপালে থাকলে হঠাত হয়। কিন্তু এটাও কি হঠাত? লোকটা নিশ্চয় বাঘের আড্ডাতে তার সাথে গল্প করতে গিয়েছিল নয়ত বাঘটা তাকে গায়ের গন্ধে ছাগল বলে ভেবেছিল। সাপটা নিশ্চয় তার চরিত্র বুঝে  একটা রাজসাপ ভেবে আক্রমণ করেছিল, কিম্বা সে সাপটাকে তার প্রতিপক্ষ ভেবেছিল এবং অসম যুদ্ধে নেমেছিল।

লিখতে লিখতে বিদ্যুৎ বাবু চলে গেলেন। গিন্নী বলল, যাঃ কারেন্ট হঠাত চলে গেল। আমার কথা এটাও হঠাত নয়। যাতে মেশিনের ক্ষতি না হয় তাই বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা জেনে শুনেই সুইচ বন্ধ করে দিয়েছে। এটা হঠাত নয়।

অবশ্যি একটা জিনিষে হঠাতই হয়েছে। এই লেখনটা আমার মাথায় কেন জানি না খাবার সময় এসেছে আর খেয়ে উঠে সেটাকে কম্প্যুটার লিখে ফেলছি।

আমার এই লেখাটা আপনাদের কি রকম লাগছে জানাবেন কিন্তু


সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১২

বাংলা লেখা বাঙ্গালীর পক্ষে সোজা কি ?



বাংলাতে কিছু লেখা অত সোজা বলে মনে হলেও কাজের বেলায় দেখা যাচ্ছে জিনিষটা বেশ কঠিন, বিশেষ করে যদি কোন ব্যাকরণ-বিশারদ আপনাকে সাহায্য করার জন্য উদ্গ্রীব হন। ব্যাপারটা হচ্ছে আমরা কোন শব্দের আগে উপসর্গ লাগিয়ে নতুন শব্দ তৈরী করি, যদিও কিছু শব্দের আগে কিছু উপসর্গ আমরা দেখতে পাইনা। যেমন আমরা বাদ শব্দের আগে উপসর্গগুলিকে যদি দেখি তবে কি পাব?
পরা +বাদ = ??নি+ বাদ= ??নির+বাদ= ??অভি+বাদ =??উত+বাদ=??।  অতি+বাদ=?? পরি +বাদ= ??অপি +বাদ= ??আ+বাদ =??
অথচ আমরা  পরাভব, নিমন্ত্রন, নিরাপদ, অভিবাদন, উতপত্তি, অতিশয়, পরিণতি, আনত এর মত শব্দ পাই। তাহলে দেখতে পাচ্ছি সব উপসর্গ, যে কোন শব্দের সাথে যাবে না।  ভেবেছিলাম আমার দরকার মতন উপসর্গ লাগিয়ে নিতে পারব। তাহলে অপশক্তি র মত আমি কি অপদেশ লিখতে পারব? ( আদেশ, নির্দেশ, উপদেশ, প্রদেশ, সন্দেশ সব পেয়েছি, অবশ্যি রসগোল্লা পাইনি)   এখানেই আমার মতন লোকেদের বিপদ। কে কার সাথে গাঁটছড়া বাঁধবে তা ঠিক করার মতন ঘটক কোথায় পাব?  আমি ছাতা বগলে নিয়ে ধুতি শার্ট পরে চটি পায়ে চলি না। অতএব আমি ফেল। আবার এই উপসর্গরা যে চিরকাল আইবুড়ো থাকে বা থাকবে তাও নয়। কে কখন কার সাথে জোট বেঁধে বিরাট বাংলা শব্দ সমূদ্রে  যে কোথায় সাঁতার কাটছে তা কে জানে। আর তা ছাড়া এই শব্দের উপসর্গরা, কিন্তু রোগের উপসর্গের চেয়ে কম কিছু নয়। রোগের উপসর্গ তার আবির্ভাব এবং অধিষ্ঠান বুঝতে সাহায্য করে, কিন্তু শব্দের উপসর্গরা এসে যার ঘাড়ে চাপে তার চেহারাটাই বদলে দেয়।
আমার সাহায্যকারী (একে আমরা কি পন্ডিত মশাই বলতে পারি?) মহাশয় আমাকে রোজ অভিধান কিনতে বলেন। আমি বলি, ধান থেকে চাল হয় তাই সেটা কিনতে পারি, কিন্তু অভিধান থেকে কি হয় যে সেটা কিনব? তিনি রাগ করে বলেন তুই চিরকাল মুর্খই থাকবি। আমি ভাবি একটা মুখে খাবার দিতে পারিনা, আবার রেফ যুক্ত মুখকে কি করে খাওয়াব।
শব্দচয়ন এর গণ্ডগোল ছেড়ে এবার দেখি লেখার যন্ত্রপাতির ব্যপারকে। আগে ছিল খাগের কলম। মাদার গাছের ছাল জলে ফুটিয়ে খয়ের মিশিয়ে বা লোহার সাথে নিশাদল মিলিয়ে কালি তৈরী করে শুখনো তালপাতার উপর খাগের কলম দিয়ে লেখা হত। আজকাল জলা জমি বুজিয়ে উঁচু উঁচু বাড়ী উঠছে, খাগ আর পাওয়া যায়না। আমি কি দিয়ে লিখব ভাবতে শুরু করার পরে নাতি হলেন উপদেষ্টা। বলে "ওসব ম্যামথদের আমলের জিনিষ নিয়ে কাজ হবে না। তুমি কম্প্যুটারে লেখ"যখন জিজ্ঞেস করি আমাকে কি ঠেলাগাড়ীতে কম্প্যুটার নিয়ে এখানে ওখানে যেতে হবে। নাতি বলে "তা কেন? ট্যাবলেট দিয়ে লিখবে। আর ভারী তো তুমি এদিক ওদিক যাও"দেখলাম মন্দ কথা নয়। কম্প্যুটারে চাবি টিপে টিপে লেখা যাচ্ছে। বুঝলাম আমার নাতির ছেলে বা নাতিরা কিছু লেখা  মানে কম্প্যুটারে চাবি টেপা ছাড়া আর কিছু জানবে না। ে কার লিখতে উপর থেকে নীচে না নীচের থেকে উপরে হাত ফেরাতে হয় সেটা ওদের অজানাই থেকে যাবে।

আমি কিন্তু আজকে সেই সে দিন কি ভয়ঙ্কর তা ভাবছি। লোকেরা চিঠি লিখছে না। কেউ কিছু কলম পেন্সিল দিয়ে লিখছে না। গাছ কাটা বন্ধ হয়েছে। গাছে গাছে পৃথিবী ঘন ছায়াময় জঙ্গলে বদলে গেছে। আর আমরা হাতে মিনি ট্যাবলেট নিয়ে তাতে বই পড়ছি, কথা বলছি, কিন্তু না লিখে লিখে আঙ্গুলের চেহারা বদলে ফেলেছি। কিছু খুব দরকার হলে প্রচুর কষ্ট করে লিখছি।

কি হবে তখন?