মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১২

কবিতা কাকে বলে


কবিতা কাকে বলে? কবি + তা = কবিতা। মানে কবি যা সৃষ্টি করেন তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে নেওয়াটা, যেটা হাস মুরগীর ডিমের উপর তা দেবার সমান বলে মানা যেতে পারে সেটাই কবিতা। ঠাট্টা বলে মনে হলেও এটা কিন্তু একেবারে ঠিক। হাঁস মূর্গী যেমন ডিম পাড়ার পরে জানে না যে সেই ডিমে বাচ্চা হবে না হাফবয়েল কি অমলেট হবে, তেমনি কবিও জানেন না যে তার লেখা গান হিসাবে গাওয়া হবে না কেউ মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে যেখানে সেখানে দাড়ি কমা লাগিয়ে আবৃত্তি হিসাবে শোনাবেন বা সেটা স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে সামিল হবে।  আজকে sms এর যুগে আর বড় বড় মহাকাব্য লেখা হয় নাঅনু কবিতা বা হাইকু নিদেন পক্ষে চোদ্দ লাইনের সনেট। এর চেয়ে বড় লিখলে আর কেউ পরবে না। সেটা ডাইনসরের ডিমের মতন ফসিল হয়ে থাকবে।

এবার দেখি কবি কারা? যিনি কবিতা লেখেন তিনিই কবি। আমি আপনি কবিতা লিখলে আমরাও কবি পদবাচ্য হয়ে যাব। কিন্তু কবিদের একটা চেহারা আমরা মনে মনে একে নিতে পারি। রবি ঠাকুরের মত লম্বা ঝোলা আলখাল্লা, লম্বা দাড়ি আজকালে আর নেই।  আগেও আমরা সত্যেন দত্ত, করুনানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় বা কাজী নজরুল এদেরকেও আমরা এই চেহারাতে সাজাতে পারিনা। বরং আজকের দিনে কবির কাধে একটা শান্তিনিকেতনী ঝোলা, মাথায় উসকো খুসকো চুল, চোখে  চশমা অবশ্যি কম্পালসরী নয়, থাকতে হবে। বিপ্লবী কবিদের হাতে একটা বিয়ারের গ্লাস থাকতে হবেআজকাল লোকে সিগারেট খাওয়া পছন্দ করে না তাই এরা স্মোকার হবেন না।  তবে মুড আনতে নেভানো পাইপের ডাঁটিটা চিবিয়ে পোড়া তামাকের গন্ধটা পছন্দ করবেন।
এবার দেখি কবিতা কারা ভালবাসে? এবং তার প্রয়োগ কোথায়? বিপ্লবী কবিতার স্লোগানে খুব ভাল উপযোগ হতে পারে। যেমন -পুলিশ তুমি যতই মারো। মাইনে তোমার একশো বারোপ্রেম পত্রে কবিতা লেখা বা টুকলি করা একটা স্টাইল কোষন্ট বলে মানা হচ্ছে। তা সেটা গোলাপের সাথে জোলাপ হলেও চলবে। আবার –“আমি তোর সেভেন আপ, তুই আমার মিরান্ডা”, এই ধরনের কবিতা লিখতে পারলে তো মার দিয়া কেল্লা। এই সব কবিতাতে বিদেশী গানের সুর ফিট করা সহজ।  আমি ভাবছি এবার লিখব  “তু রু রু রু, এইত আমার প্রেমের শুরু, কি করব বলনা গুরু”আমি নিশ্চিত জানি যে যদি কোন প্রোডুসারকে দিয়ে এটাকে আগামী ছবির হিরোর মুখে গাওয়ানো যায় তবে এটা বছরের শ্রেষ্ট গান হিসাব সানন্দা পুরস্কারের একমাত্র যোগ্য গান হবে। খালি এর জন্য আমাকে একটু পালিশ, মালিশ বা বালিশ দিতে হবে। যাকগে সেটা এমন কিছু নয়।
এতক্ষন কবিতার উপর আমার গরু খোজা (গো + এষনা = গবেষনা) লিপিবদ্ধ করলাম। মোদ্দা কথা পাওয়া গেল যে কবি আপনি ও হতে পারেন আর কবিতা লেখা এমন কিছু একটা শক্ত কাজ নয়। অতএব লেগে পড়ুন। একটা কিছু লিখুন, একটু পালিশ, বালিশ, মালিশের জোগাড় রাখুন। তাই বলি “এখন আর দেরী নয়, ধরগো তোরা, হাতে কলম ধরগো, এখন খাতা ভরে লিখে লিখে, পাতা গুলো ভরগো”।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন